চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির সংঘর্ষে কিরিচ হাতে ভাইরাল হওয়া ছাত্রদল নেতা মির্জা ফারুকের দাবি সেই কিরিচটি তার নয়। সেটি নাকি শিবিরের অস্ত্র। পালানোর সময় শিবির কর্মীরা সেটি রাস্তায় ফেলে দিয়েছিলেন। সেটি কুড়িয়ে নিয়ে তিনি পুলিশকে দিতে যাচ্ছিলেন।
আজ বুধবার দৈনিক পূর্বতারা পত্রিকাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি আত্মপক্ষ সমর্থন করে সেই ঘটনার ব্যাখ্যা করেছেন।
তিনি বলেন, অস্ত্রটি তাদের (শিবির) অস্ত্র। তারা যখন আমাদের হামলা করে আমরা পাল্টা প্রতিরোধ করতে যাই। প্রতিরোধের মুখে তারা অস্ত্রটা ফেলে যায়। এ অস্ত্রটি কুড়িয়ে নিয়ে আমি পুলিশকে দিতে যাচ্ছিলাম। সেটা আপনারা দেখে থাকবেন। এই অবস্থায় তখন তারা কিছু ছবি উঠায়ে আমাকে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলে।
এ বিষয়ে আইনগত পদক্ষেপ নিচ্ছেন কি না এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, আমি তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। আমি দুঃখ ভারাক্রান্ত হয়ে বলছি যে, এই ধরণের নোংরা রাজনীতি এদেশে চাই না। আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ বিষয়ে আমি শীর্ষ নেতৃত্বের সাথে কথা বলে সিদ্ধান্ত নেব।
মির্জা ফারুক আরও বলেন, ক্যাম্পাসে যেই রাজনীতি করুক। গুপ্ত ভাবে কোন সংগঠন অবস্থান নিতে পারবে না। গুপ্ত রাজনীতি করতে পারবে না। গুপ্ত রাজনীতি আমরা মেনে নেব না।
চট্টগ্রাম সিটি কলেজের দেয়ালে আঁকা গ্রাফিতিতে ‘ছাত্র’ শব্দ মুুছে ‘গুপ্ত’ শব্দ লেখা নিয়ে ছাত্রদল-ছাত্রশিবিরের মধ্যে মঙ্গলবার দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের সময় নীল শার্ট পরিহিত এক যুবককে হাতে কিরিচ নিয়ে ঘোরাফেরার ছবি,ভিডিও বিভিন্ন মাধ্যমে প্রকাশ পায়।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, কিরিচ হাতে সংঘর্ষস্থলে ঘোরাফেরা করা সেই যুবকের নাম মির্জা ফারুক। তিনি চট্টগ্রামের এম ই এস কলেজ শাখা ছাত্রদলের সদস্য সচিব। তার বাড়ি কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে।
ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, সংঘর্ষের সময় উভয় দলের অনেকেই মাথায় হেলমেট, হাতে লাঠিসোটা, পাথরসহ দেশীয় ধারালো অস্ত্র নিয়ে দৌঁড়াদৌড়ি করছেন। তবে তাদেরকে এখনো চিহ্নিত করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা প্রশাসন।