লোডশেডিংয়ে নাকাল পুরো চট্টগ্রাম। একদিকে জ্বালানি সংকটের কারণে চট্টগ্রামে ৯টি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র বন্ধ। তারওপর চাহিদার তুলনায় কম উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করতে হচ্ছে। এমন অবস্থায় পিক আওয়ারে ১০০ থেকে ১৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ লোডশেডিং করতে হচ্ছে। শহর বা উপজেলায় দৈনিক গড়ে ৬ থেকে ৭ ঘণ্টা লোডশেডিং হচ্ছে।
পিডিবির দক্ষিণাঞ্চলীয় জোনের জনসংযোগ কর্মকর্তা আকবর হোসেন জানিয়েছেন, জ্বালানি ও গ্যাস সংকটের কারণে চট্টগ্রামের ২৮টি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের মধ্যে বর্তমানে ৯টি বন্ধ ছিল। বাকি ১৯টিতে বিদ্যুৎ উৎপাদন চলমান রয়েছে। চলতি গ্রীষ্ম মৌসুমে চট্টগ্রামে পিক আওয়ারে দৈনিক বিদ্যুতের চাহিদা ১৪৪৫ দশমিক ৫০ মেগাওয়াট। তবে সে অনুপাতে উৎপাদন কম হচ্ছে। তাই লোডশেডিং করতে হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র অনুযায়ী, চট্টগ্রাম অঞ্চলে যেসব বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র বন্ধ রয়েছে সেগুলো হলো- রাউজান ১ ও ২ নম্বর ইউনিট, কাপ্তাই ১, ৩ ও ৪ নম্বর ইউনিট, জুডিয়াক ২, জুলধা ৩ ও ৪ নম্বর ইউনিট এবং টেকনাফের সোলার।
চট্টগ্রাম নগরের চকবাজার, বহদ্দারহাট, আগ্রাবাদ, হালিশহর ও বাকলিয়া, পাঁচলাইশ,ডবলমুরিং, পতেঙ্গা,বন্দরসহ প্রায় সব এলাকায় দৈনিক ৬-৭ ঘণ্টা লোডশেডিং হচ্ছে। এমন অবস্থায় তীব্র গরমে অতিষ্ঠ নগরবাসীর প্রাণ ওষ্ঠাগত। বন্ধ হতে বসেছে বিদ্যুৎ নির্ভর উৎপাদন শিল্পখাত। বিভিন্ন ব্যবসা ও শিল্প প্রতিষ্ঠানে সৃষ্টি হচ্ছে নানামুখী প্রতিকূলতা।
চান্দগাঁও এলাকার বাসিন্দা মো. জাহেদ উল্লাহ বলেন, একদিকে তীব্র গরম তারওপর লোডশেডিং। কয়েকদিন ধরে রাত ১২ টার পর থেকে নিয়মিত বিদ্যুৎ বিভ্রাট ঘটছে। সারাদিনের পরিশ্রম শেষে ঘুমানোর সময় লোডশেডিংয়ের কারণে কর্মজীবীরা বিশ্রাম নিতে পারছে না। এমন অবস্থা চলতে থাকলে লোকজন অসুস্থ হয়ে যাবে।
পূর্বতারা/ ইউডি