চট্টগ্রামের লোহাগাড়ার পদুয়া ইউনিয়নের ঠাকুরদীঘি বাজার-জঙ্গল পদুয়াগামী সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় পড়ে থাকায় এলাকাবাসীর দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। প্রায় ২ কিলোমিটার দীর্ঘ এ সড়কটি স্থানীয়দের পাশাপাশি বান্দরবানগামী যাতায়াতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলেও সংস্কারের অভাবে এখন এটি যেন মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, এক সময়ের সলিং করা প্রশস্ত সড়কটি এখন বড় বড় গর্ত ও খাদে ভরা। সামান্য বৃষ্টি হলেই কাদা জমে চলাচল আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এ পথে চলাচল করছেন যানবাহন চালক, শিক্ষার্থী ও রোগীবাহী যান।
স্থানীয়রা জানান, সড়কের এ অবস্থার কারণে সাধারণ পথচারী থেকে শুরু করে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী এবং জরুরি রোগী পরিবহনকারী যানবাহন মারাত্মক ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। দ্রুত সংস্কার না হলে আসন্ন বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করবে বলে আশঙ্কা তাদের।
ঠাকুরদীঘি বাজারের ব্যবসায়ী মো. মিনহাজ উদ্দীন বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে সড়কটির কোনো উন্নয়ন হয়নি। এখনই সংস্কার না করলে বর্ষায় চলাচল একেবারে বন্ধ হয়ে যাবে।’
উত্তর পদুয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রফিক উদ্দীন বলেন, ‘সড়কের কারণে শিক্ষার্থীরা চরম ভোগান্তিতে পড়ছে। রোগী পরিবহনও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। দ্রুত সংস্কার জরুরি।’
স্থানীয় ইউপি সদস্য আমানুল হক জানান, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সড়কটি সংস্কারের জন্য প্রায় ৯৪ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। চলতি বছরের মার্চের প্রথম সপ্তাহে টেন্ডার আহ্বান করা হলে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজটির দায়িত্ব পায়। চুক্তি অনুযায়ী, ৯০ দিনের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এখনো কাজ শুরু হয়নি।
এ বিষয়ে পদুয়া ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী বলেন, ‘সড়কটি জনস্বার্থে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দ্রুত কাজ শুরু করা প্রয়োজন।’
অন্যদিকে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রজেক্ট ম্যানেজার কফিল উদ্দীন জানান, নির্মাণ সামগ্রীর মূল্যবৃদ্ধির কারণে কাজটি করতে তারা আর্থিক ঝুঁকিতে পড়ছেন। বিষয়টি নিয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছে।
লোহাগাড়া উপজেলা প্রকৌশলী ফাহাদ-বিন-মাহমুদ বলেন, ‘ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে কাজ শুরু না করার বিষয়ে কারণ জানতে চিঠি দেওয়া হয়েছে। তাদের জবাব পাওয়ার পর পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’