চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলায় জনপ্রিয় হয়ে উঠছে সূর্যমুখী চাষ। ভোজ্য তেলের আমদানি নির্ভরতা কমানো এবং কৃষকদের আর্থিকভাবে লাভবান করার লক্ষ্যে সরকারি প্রণোদনায় উপজেলার বিভিন্ন স্থানে সূর্যমুখীর চাষ করা হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া ও যথাযথ পরিচর্যায় ইতোমধ্যে ফুল আসতে শুরু করেছে। মাঠ জুড়ে ফুটে থাকা সূর্যমুখীর মোহনীয় রূপ প্রকৃতিকে করে তুলেছে অপরূপ। সম্ভাবনাময় নতুন এই ফসলকে ঘিরে স্বপ্ন বুনছেন কৃষকরা।
মিরসরাই উপজেলার উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা দিদারুল আহসান পাবেল বলেন, ইছাখালী ইউনিয়নে চলতি বছর প্রায় ১ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখী আবাদ হয়েছে। কৃষকদের আগ্রহ, পরিশ্রম এবং সরকারি সহায়তার কারণে এই আবাদ ধীরে ধীরে বাড়ছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামীতে এই পরিমাণ আরও বৃদ্ধি পাবে।
মিরসরাই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রতাপ চন্দ্র রায় বলেন, সূর্যমুখীর তেলে পুষ্টিগুণ বেশি। বাজারে এর চাহিদাও দিন দিন বাড়ছে। এ কারণে কৃষকরা সূর্যমুখী চাষে আগ্রহী হচ্ছেন। চাষাবাদ থেকে শুরু করে ফসল সংগ্রহ এবং তেল প্রক্রিয়াজাতকরণ পর্যন্ত কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
কৃষক সমীর চন্দ্র দাশ বলেন, কৃষি অফিসের প্রণোদনা পেয়ে ১৫ হাজার টাকা ব্যয়ে ৪০ শতক জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে সূর্যমুখী চাষ করেছিলাম। শুরুতে কিছুটা সংশয় থাকলেও বর্তমানে গাছের বৃদ্ধি ও ফুলের অবস্থা দেখে আমি আশাবাদী। সবকিছু অনুকূলে থাকলে ভালো লাভ হবে বলে তিনি মনে করছেন।

অপর কৃষক জুয়েল দাশ জানান, চলতি বছরই প্রথমবারের মতো তিনি সূর্যমুখী চাষ করেছেন। এখন ফুল এসেছে। মাঠভরা ফুল দেখে মনে হচ্ছে ফলন ভালোই হবে। বর্তমানে ভোজ্য তেলের দাম ভালো থাকায় তিনি আশা করছেন এ মৌসুমে লাভও বেশি হবে।
স্থানীয় বাসিন্দা নুরুন নবী বলেন, তাদের এলাকায় গত দুই বছর ধরে সূর্যমুখী চাষ হচ্ছে। আশপাশের কৃষকদের সফলতা দেখে তিনিও আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। সরকার থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা পেলে আগামী বছর তিনিও সূর্যমুখী চাষে যুক্ত হতে চান বলে জানান।
মিরসরাইয়ের মাঠে মাঠে এখন সূর্যমুখীর হাসি। মাঠ জুড়ে ফুটে থাকা সূর্যমুখী মিরসরাইয়ের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। সূর্যমুখীর সৌন্দর্য দেখতে মাঠে দর্শনার্থীদের ভিড় লেগেই থাকে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, প্রয়োজনীয় সহায়তা, প্রশিক্ষণ এবং বাজারব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে সূর্যমুখী মিরসরাইয়ের কৃষকদের জন্য একটি লাভজনক বিকল্প ফসল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে।
পূর্বতারা/ইউডি/আজমল হোসেন