মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি থেকে সৃষ্ট বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আংশিক অনলাইন ক্লাস চালুর আলোচনা উঠলেও চট্টগ্রামের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে এ বিষয়ে স্পষ্ট অনাগ্রহ দেখা গেছে। তাদের মতে, অনলাইন ক্লাস চালু হলে শিক্ষার মানে ঘাটতি দেখা দিতে পারে।
জানা গেছে, গত ২৯ মার্চ পবিত্র রমজান ও ঈদুল ফিতরের ছুটি শেষে প্রায় ৪০ দিন পর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো স্বশরীরে পাঠদান শুরু করেছে। এর মধ্যেই জ্বালানি সংকটের কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আংশিক অনলাইন ক্লাস চালুর বিষয়টি বিবেচনায় আনে সরকার। সপ্তাহে তিন দিন অনলাইন ও তিন দিন সরাসরি ক্লাস নেওয়ার একটি প্রস্তাব নিয়েও আলোচনা হয়।
তবে শিক্ষার্থীরা বলছেন, প্রয়োজনীয় ডিভাইস যেমন স্মার্টফোন, ল্যাপটপ বা ট্যাব না থাকায় অনেকেই অনলাইন ক্লাসে অংশ নিতে পারে না। পাশাপাশি স্থিতিশীল ইন্টারনেট সংযোগের অভাবেও নিয়মিত পাঠদান ব্যাহত হয়। তাদের অভিযোগ, অনলাইন ক্লাসে মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন এবং অনেক সময় পড়াশোনার বদলে অন্য কাজে সময় নষ্ট হয়।
ডা. খাস্তগীর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী সাদিয়া আক্তার বলেন, অনলাইন ক্লাস হলে আমরা ঠিকমতো মনোযোগ দিতে পারি না। অনেক সময় ইন্টারনেট সমস্যা থাকে, আবার ক্লাসের সময় অন্যদিকে মন চলে যায়। তাই স্বশরীরে ক্লাসই ভালো।
সরকারি মুসলিম হাই স্কুলের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী মাহমুদুল হাসান বলেন, সব শিক্ষার্থীর কাছে স্মার্টফোন বা ল্যাপটপ নেই। অনেকে ডিভাইসের অভাবে ক্লাসই করতে পারবে না। এতে শিক্ষায় বৈষম্য বাড়বে।
অভিভাবকদের মধ্যেও একই ধরনের উদ্বেগ দেখা গেছে। অভিভাবক রাশেদা বেগম বলেন, করোনার সময় দেখেছি, অনলাইন ক্লাসে বাচ্চারা ঠিকমতো পড়াশোনা করে না। বরং মোবাইলে অন্য কাজে বেশি সময় দেয়। তাই আমরা অনলাইন ক্লাস চাই না।
অন্য অভিভাবক মো. জসিম উদ্দিন বলেন, সব পরিবারের পক্ষে ইন্টারনেট ও স্মার্টফোনের খরচ বহন করা সম্ভব নয়। এতে অনেক শিক্ষার্থী পিছিয়ে পড়বে।
শিক্ষকরাও একই উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে অনেক শিক্ষার্থীর কাছে প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি নেই। ফলে অনলাইন ক্লাস চালু হলে একটি বড় অংশ পাঠদান থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে।
নগরীর হাজী মুহাম্মদ মহসিন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আজিজুল হক নিজামী বলেন, অনলাইন ক্লাস কার্যকর করতে হলে সবার জন্য সমান প্রযুক্তি সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। না হলে অনেক শিক্ষার্থী ক্লাস থেকে বঞ্চিত হবে। স্বশরীরে ক্লাসেই শিক্ষার্থীদের শেখার মান ভালো থাকে। অনলাইন ক্লাস সাময়িক সমাধান হতে পারে, কিন্তু স্থায়ীভাবে এটি কার্যকর নয়।
এদিকে গতকাল পরীক্ষামূলকভাবে ঢাকার কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ৩ দিন অনলাইন ও ৩ দিন সশরীর ক্লাস চালুর ঘোষণা দেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেন, নির্দিষ্ট ১০টি স্কুলের বাইরে যদি কোনো প্রতিষ্ঠান অনলাইনে ক্লাস নিতে চায়, তবে সরকার সেটি বিবেচনা করবে।
মন্ত্রী জানান, শিক্ষকদের স্কুলে উপস্থিত থেকে অনলাইন ক্লাস নেওয়ার একটি মডেলও বিবেচনায় আছে। এতে করে ক্লাসের মনিটরিং ও সুপারভিশন আরও জোরদার করা সম্ভব হবে। একইসঙ্গে শিক্ষার্থীরা নির্দিষ্ট সময়ে পাঠ গ্রহণ করছে কি না, সেটিও পর্যবেক্ষণ করা সহজ হবে।