প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে কটূক্তি এবং স্বাধীনতার ইতিহাস বিকৃতির প্রতিবাদে চন্দনাইশে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদের বিরুদ্ধে ঝাড়ু মিছিল করেছে উপজেলা বিএনপি ও তার অঙ্গ সংগঠন। এদিকে অলি আহমদের ছেলে এলডিপি’র প্রেসিডিয়াম সদস্য ওমর ফারুক এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে ৭ কর্মদিবসের মধ্যে এর যথাযথ ব্যাখ্যা চেয়েছেন।
গত শনিবার (৪ এপ্রিল) বিকেলে চন্দনাইশ উপজেলার গাছবাড়িয়া কলেজ গেট এলাকায় উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের উদ্যোগে ঝাড়ু মিছিল, বিক্ষোভ সমাবেশ এবং কুশপুত্তলিকা দাহ কর্মসূচি পালন করা হয়। সমাবেশে বক্তারা অলি আহমদের বক্তব্যকে ‘কটূক্তি’ ও ‘ইতিহাস বিকৃতি’ আখ্যা দিয়ে তাকে চন্দনাইশ ও সাতকানিয়া এলাকায় অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেন। এমনকি তার প্রবেশ নিষিদ্ধ করার ঘোষণাও দেন স্থানীয় বিএনপি নেতারা।

সমাবেশে চন্দনাইশ উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এম হাশেম রাজু বলেছিলেন, ‘স্বাধীনতার ইতিহাস বিকৃতির প্রতিবাদে নেতাকর্মীরা রাজপথে সোচ্চার থাকবে এবং এ ধরনের বক্তব্য কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।’
তবে এ ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে এলডিপি। অলি আহমদের ছেলে ও দলটির প্রেসিডিয়াম সদস্য ওমর ফারুক বিএনপির মহাসচিবের কাছে লিখিতভাবে ব্যাখ্যা চেয়ে আবেদন করেছেন। গতকাল রোববার (৫ এপ্রিল) পাঠানো ওই চিঠিতে তিনি অভিযোগ করেন, তার পিতা একজন খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা হওয়া সত্ত্বেও তাকে ‘রাজাকার’ আখ্যা দিয়ে অপমান করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।

চিঠিতে তিনি জানতে চান, কোন নির্দিষ্ট বক্তব্যকে ‘কটূক্তি’ বলা হচ্ছে, সেই বক্তব্যের পূর্ণ প্রেক্ষাপট কী এবং এ ধরনের কর্মসূচি দলীয়ভাবে অনুমোদিত ছিল কি না। পাশাপাশি, বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এই কর্মসূচিকে সমর্থন করে কি না— তাও স্পষ্ট করার আহ্বান জানান।
ওমর ফারুক আরও উল্লেখ করেন, বিক্ষোভ চলাকালে সহিংস স্লোগান, বিলবোর্ড ভাঙচুর এবং উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড দেখা গেছে। এসব অভিযোগ প্রমাণিত না হলে তা মানহানি ও জনশৃঙ্খলা বিঘ্নের শামিল হতে পারে বলে তিনি আইনি পদক্ষেপের ইঙ্গিত দেন।