চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ-সীতাকুণ্ড নৌরুটের গুপ্তছড়া-বাঁশবাড়িয়া ফেরীঘাট উদ্বোধনের এক বছর পার হলেও কাঙ্ক্ষিত অবকাঠামোগত উন্নয়ন না হওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন যাত্রী ও যানবাহন চালকরা।
গত বছরের ২৪ মার্চ অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ভার্চুয়ালি এ নৌরুট উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনের সময় দ্বীপবাসীর দীর্ঘদিনের যাতায়াত দুর্ভোগ লাঘবের আশ্বাস দেওয়া হলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন দেখা যায়নি।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) বাঁশবাড়িয়া ফেরীঘাটে সরেজমিনে দেখা যায়, এমভি মালঞ্চ জাহাজ থেকে নামতে গিয়ে যাত্রীদের হাঁটুসমান কিংবা তারও বেশি পানির মধ্যে দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। জোয়ার বাড়লে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে- তখন ছোট নৌকা ব্যবহার করে যাত্রী নামাতে হয়।
উঁচু জোয়ারের সময় ঘাটের উভয় প্রান্তেই একই চিত্র দেখা যায়। যানবাহন চালকদের ঝুঁকি নিয়ে পানির মধ্য দিয়েই গাড়ি চালিয়ে পন্টুন ব্রিজে উঠতে হয়। এতে দুর্ঘটনার আশঙ্কা যেমন বাড়ছে, তেমনি লবণাক্ত পানিতে যানবাহনের যন্ত্রাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
মালবাহী ট্রাকচালক মিন্টু বলেন, ‘জোয়ারের পানিতে ট্রাক চালিয়ে পন্টুনে ওঠা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। লোনা পানিতে গাড়ির বডি ও যন্ত্রাংশ দ্রুত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।’
এদিকে, উঁচু বা মাঝারি জোয়ারের সময় যাত্রীদের জন্য বিআইডব্লিউটিএ নির্মিত বিকল্প অস্থায়ী কাঠের সেতুটি নিরাপদ নয় বলে অভিযোগ দ্বীপবাসীর। বিশেষ করে নারী, শিশু ও বৃদ্ধদের জন্য মই বেয়ে ওঠানামা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী সাবিহা রাখী বলেন, ‘বৃদ্ধ মা-বাবাকে নিয়ে এভাবে ওঠানামা করা খুবই বিপজ্জনক। পা পিছলে যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।’
জানা গেছে, ফেরীঘাটের দুই প্রান্তে পন্টুন ও সড়কের মাঝামাঝি প্রায় ৫০ ফুট এলাকা জোয়ারের পানির প্রবাহে নিচু হয়ে গেছে। ফলে জোয়ারের সময় ওই অংশে হাঁটুসমান পানি জমে, যা যাত্রী ও যান চলাচলের জন্য অনুপযোগী হয়ে পড়ে। এতে বিকল্প পথে যাত্রী ওঠানামায় প্রায় এক ঘণ্টা সময় লাগছে এবং গাড়ি পারাপারেও বিলম্ব হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বর্তমানে প্রতিদিন দেড় থেকে দুই হাজার যাত্রী ও বিপুল সংখ্যক যানবাহন এ নৌরুটে পারাপার হচ্ছে। এ রুটে বিআইডব্লিউটিসির এমভি মালঞ্চ ও ফেরী কপোতাক্ষ চলাচল করছে।
বিআইডব্লিউটিএ চট্টগ্রাম বিভাগের উপপরিচালক নয়ন শীল দুর্ভোগের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, ‘আমি সোমবার সরেজমিনে ঘাট পরিদর্শন করেছি। যাত্রী ও যানবাহন পারাপার সহজ করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।’