চট্টগ্রামে হঠাৎ করে হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। শিশুরা হামে আক্রান্ত হয়ে চট্টগ্রামের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে। গত ১০ দিনে হামে আক্রান্ত ১৭ রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে বলে জানিয়েছে সিভিল সার্জন।
এ ব্যাপারে চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ২৯ মার্চ রাত ১০ টা পর্যন্ত হামের সন্দেহজনক উপসর্গ নিয়ে চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে ২ জন , চমেক হাসপাতালে ১১ জন এবং মা ও শিশু হাসপাতালে ৪ জন শিশু ভর্তি হয়েছেন। এসব রোগীদের নমুনা পরীক্ষা কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।
তবে চট্টগ্রামে হামে আক্রান্ত হয়ে ৪ জন শিশুর মারা যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে তিনি বলেন, হামে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়ার নথিভুক্ত তথ্য আমাদের কাছে নেই। টিকারও কোন সংকট নেই। সময় অনুযায়ী টিকা দেওয়া হচ্ছে। তবে ৯ মাসের কম বয়সি শিশু যারা এখনো হামের টিকা পায়নি তাদের এ রোগের ঝুঁকি বেশি ।
এদিকে, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হামে আক্রান্ত শিশুদের জন্য ‘হাম কর্ণার’ চালু করা হয়েছে। এ কর্ণারে হাম ও হামজনিত নিউমোনিয়ার লক্ষণ নিয়ে ভর্তি রোগীদের চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।
চমেক হাসপাতালের শিশুস্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ মুছা মিঞা বলেন, হামের উপসর্গ দেখা দিলে প্রাথমিকভাবে রোগ শনাক্ত করা হয়। পরে নমুনা পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যায়। আক্রান্তদের মধ্যে ৬ মাসের কম বয়সী শিশুও রয়েছে।
চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দীন বলেন, হাম বা হামজনিত লক্ষণ নিয়ে চিকিৎসাধীন রোগীদের নমুনা পরীক্ষা প্রক্রিয়াধীন। টেস্ট রিপোর্ট পাওয়ার পর সঠিক তথ্য জানা যাবে। তবে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে তাদেরকে আলাদা ওয়ার্ডে রাখা হয়েছে। আক্রান্ত রোগীদের বেশির ভাগের বয়স ৯ মাসের কম। যারা এখনো হামের টিকা গ্রহণ করেনি।
চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালে হাম ও হামজনিত লক্ষণ নিয়ে গত ১০ দিনে ১৫ রোগী ভর্তি হয়েছেন। ইতোমধ্যে হাসপাতালটিতে হাম ও হামজনিত লক্ষণে ৩ শিশু মারা গেছে বলে জানা গেছে।
এ ব্যাপারে হাসপাতালের শিশু বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. মিশু তালুকদার বলেন, অনেক রোগী উচ্চ জ্বর, শ্বাসকষ্ট, খিচুনি বা এ জাতীয় সংক্রমণ নিয়ে ভর্তি হয়েছেন। ঝুঁকিপূর্ণ রোগীদের আইসিইউ-তে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে আবহাওয়ার পরিবর্তনজনিত কারণে শিশুদের মধ্যে এ জাতীয় রোগের সংক্রমণ ঘটছে। অভিভাবকদেরকে সতর্ক থাকতেই হবে। জ্বর,শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে সাথে সাথে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
চলতি বছরের ৪ জানুয়ারি কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে প্রথম হাম শনাক্ত হয়। এরপর ১০ জানুয়ারি জেলায় সতর্কতা জারি করে স্বাস্থ্য বিভাগ।