শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

এক ওড়নায় ঝুলছিল মা-মেয়ের লাশ, পরিবারের দাবি হত্যা

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ : ১৭ মার্চ ২০২৬, ০৯:৩১

চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরে সুমি আকতার (১৯) ও তার দুই বছরের কন্যা ওয়াজিহা আক্তারের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) বিকেল সাড়ে পাঁচটায় উপজেলার বৈরাগ ইউনিয়নের গুয়াপঞ্চক আশ্রয়ণ প্রকল্পে এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ নিহত সুমি আক্তারের স্বামী, সিএনজি চালক মোহাম্মদ মিজানকে (৩৫) জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে। নিহত সুমি কর্ণফুলী উপজেলার শিকলবাহা ইউনিয়নের মৃত নুরুল ইসলামের মেয়ে। তার স্বামী মিজান পটিয়া উপজেলার কৈয়গ্রাম মালিয়ারা এলাকার মোহাম্মদ আলীর ছেলে। কয়েক বছর ধরে তারা গুচ্ছগ্রাম আশ্রয়ণ প্রকল্পে পরিবার নিয়ে বসবাস করছিল। ঘটনার পর সুমি আক্তারের শাশুড়ি পালিয়ে গেছে।

নিহতের দুলাভাই মো. এনামুল হক জানান, তিন বছর আগে সুমির সঙ্গে মিজানের পারিবারিকভাবে বিবাহ হয়। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায় সময় ঝগড়া-বিবাদ হতো। কিছুদিন আগে একটি স্বর্ণ বন্ধক নিয়েও বিবাদ হয়েছিল। ঘটনার দিন বিকেলে শাশুড়িকে ফোনে জানানো হয়, সুমি ও তার মেয়ে আত্মহত্যা করছে। ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, মা ও মেয়ের লাশ ওড়নায় ঝুলছিল।

তিনি জানান, এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড এবং ঘটনার পর স্বামী মিজান ও তার মা পালিয়েছে। কিছুক্ষণ পর মিজানকে আটক করা হয়, কিন্তু তার মা এখনো পলাতক।

নিহতের মা হোসনে আরা বেগম (৭০) অভিযোগ করেছেন, ফোনে মিজান বারবার বলছিল তার মেয়ে ও নাতনী মারা গেছে। তিনি মোবাইলে কান্নাজড়িত কণ্ঠশব্দ শুনতে পাচ্ছিলেন। পরে নিশ্চিত হন, দুইজনই মারা গেছে এবং দাবি করেন, তাদের হত্যা করা হয়েছে। তিনি ঘটনার বিচারের দাবি জানিয়েছেন।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মুহাম্মদ ইদ্রিছ বলেন, মিজান নিজেই ফোনে জানায় স্ত্রী ও মেয়ে আত্মহত্যা করেছে। এরপর তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশকে জানান।

আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জুনায়েত চৌধুরী জানিয়েছেন, পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মা-মেয়ে উভয়ের লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠিয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য স্বামী মিজানকে থানায় আনা হয়েছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

ভিডিও