অকটেন সংকটে প্রায় আট দিন বন্ধ থাকার পর চট্টগ্রামের সন্দ্বীপের গুপ্তছড়া–কুমিরা (সীতাকুণ্ড) নৌরুটে স্পিডবোট চলাচল পুনরায় শুরু হয়েছে। রোববার (১৫ মার্চ) সকাল ছয়টা থেকে স্পিডবোট চলাচল শুরু হয় এবং বিকাল ২টা পর্যন্ত যাত্রী পারাপার করা হয়।
স্পিডবোট পরিচালনায় নিয়োজিত আর কে এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী জগলুল হোসেন নয়ন জানান, শনিবার সন্ধ্যায় একটি জ্বালানি তেল বিপণনকারী প্রতিষ্ঠানের অকটেনবাহী লরি ঘাটে পৌঁছায়। ওই লরিতে ৯ হাজার লিটার অকটেন ছিল। জ্বালানি সংগ্রহ হওয়ায় রোববার সকাল থেকে পুনরায় স্পিডবোট চলাচল শুরু করা সম্ভব হয়েছে। তবে আবহাওয়া খারাপ থাকায় বিকাল ২টার পর সার্ভিস বন্ধ রাখা হয়েছে। সোমবার থেকে আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে নিয়মিত স্পিডবোট চলাচল অব্যাহত থাকবে।
তিনি আরও বলেন, পুরো ঈদ মৌসুমে স্পিডবোট চালাতে প্রায় ৮০ হাজার লিটার অকটেন প্রয়োজন হয়। আপাতত পাওয়া ৯ হাজার লিটার অকটেন দিয়ে দুই দিনের মতো সার্ভিস চালানো সম্ভব হবে। পরবর্তীতেও জ্বালানি সরবরাহের আশ্বাস পাওয়া গেছে বলে জানান তিনি।
জানা গেছে, কুমিরা–গুপ্তছড়া নৌপথে তিনটি কোম্পানি স্পিডবোট পরিচালনা করে। এর মধ্যে আরকে এন্টারপ্রাইজ ও আদিল এন্টারপ্রাইজ যৌথভাবে ২৫টি স্পিডবোট দিয়ে সার্ভিস পরিচালনা করে। অপর কোম্পানি সন্দ্বীপ মেরিন সার্ভিস পৃথকভাবে আটটি স্পিডবোট পরিচালনা করে। তবে অজ্ঞাত কারণে তেল সংকট শুরুর আগ থেকেই সন্দ্বীপ মেরিন সার্ভিসের স্পিডবোট চলাচল বন্ধ রয়েছে।
স্বাভাবিক সময়ে আরকে এন্টারপ্রাইজ ও আদিল এন্টারপ্রাইজের দৈনিক অকটেনের চাহিদা থাকে প্রায় তিন হাজার লিটার। ঈদের সময় যাত্রীর চাপ বাড়লে তা বেড়ে প্রায় সাড়ে চার হাজার লিটারে পৌঁছে। যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল ও ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাতের কারণে সৃষ্ট জ্বালানি সংকটে চলতি ৭ মার্চ থেকে দুই কোম্পানি অকটেন পায়নি। ফলে সেদিন থেকেই এই রুটে স্পিডবোট চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
এ বিষয়ে সন্দ্বীপ উপজেলা বিএনপি নেতা প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন বলেন, সন্দ্বীপ ও সীতাকুণ্ড আসনের নির্বাচিত সংসদ সদস্যের যৌথ প্রচেষ্টায় জ্বালানি সংকটের সমাধান হয়েছে। ঈদযাত্রায় জ্বালানি সংক্রান্ত কোনো সমস্যা হলে তা সমাধানে উদ্যোগ নেওয়া হবে।