চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার রুটে চলাচলরত আন্তনগর ট্রেনে পাথর নিক্ষেপের ঘটনা থামছেই না। সর্বশেষ মঙ্গলবার রাতে কক্সবাজারের রামু এলাকায় চলন্ত ট্রেনে বাইরে থেকে ছোড়া পাথরে এক যাত্রী মাথায় আঘাত পান। এর আগের রাতে চকরিয়ার ডুলাহাজারা অংশে পাথরের আঘাতে গুরুতর আহত হন রেলের কর্মী ছাবের আহমেদ। তিনি বর্তমানে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
রেলওয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন রুটে ট্রেনে পাথর নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে ১৪৪ বার। এসব ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ৩৭ জন। সবচেয়ে বেশি হামলার শিকার হয়েছে কক্সবাজার রুট। শুধু এই রুটেই এক বছরে অন্তত ৩৭ বার পাথর নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে, যাতে আহত হয়েছেন ১২ জন। আহতদের মধ্যে নারী, পুরুষ ও শিশুও রয়েছে। একাধিক ঘটনায় ট্রেনের জানালা ও দরজার কাচ ভেঙে গেছে।
বর্তমানে কক্সবাজার রুটে চার জোড়া ট্রেন চলাচল করছে। সড়কপথের ভোগান্তির কারণে এই রুটে ট্রেন যাত্রা যাত্রীদের কাছে জনপ্রিয় হলেও পাথর নিক্ষেপের ঘটনায় যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক বাড়ছে। বিশেষ করে চকরিয়া ও রামু উপজেলার বিভিন্ন অংশে এসব হামলার ঘটনা বেশি ঘটছে।
রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা মোহাম্মদ সফিকুর রহমান জানান, পাথর নিক্ষেপ রোধে সচেতনতামূলক কার্যক্রম ও প্রচারপত্র বিতরণসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এখনো কার্যকর ফল আসেনি।
রেলওয়ে আইন অনুযায়ী, চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ করে যাত্রী আহত করলে সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা ন্যূনতম ১০ বছরের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। কিন্তু বাস্তবে আইনের কঠোর প্রয়োগ না থাকায় এমন ঘটনা বারবার ঘটছে বলে মনে করছেন যাত্রীরা। তাদের দাবি, দ্রুত জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা না হলে এই ঝুঁকি আরও বাড়বে।