শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

১৫টিই রাজনৈতিক সংশ্লিষ্ট

রাউজানে থামছে না রক্তপাত, দেড় বছরে ২১ খুন

স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশ : ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৫:২৫

চট্টগ্রামের রাউজানে একের পর এক হত্যাকাণ্ডে উদ্বেগ-আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে জনমনে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেড় বছরে উপজেলায় অন্তত ২১টি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, এর মধ্যে অন্তত ১৫টি রাজনৈতিক সংশ্লিষ্ট।

সাম্প্রতিক চারটি হত্যাকাণ্ডে একই ধরনের কৌশল লক্ষ্য করা গেছে, মুখে কাপড় বা মুখোশ বেঁধে মোটরসাইকেলে এসে প্রকাশ্যে গুলি, এরপর দ্রুত এলাকা ত্যাগ। এসব ঘটনায় একটি ছাড়া বাকি তিনটিতে হামলাকারীদের শনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ।

সর্বশেষ র গত বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে উপজেলার পূর্ব গুজরা ইউনিয়নের অলিমিয়াহাট বাজারে যুবদল নেতা মুহাম্মদ আবদুল মজিদকে (৫০) লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। তিনি পূর্ব গুজরা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি ছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মুখোশধারী কয়েকজন মোটরসাইকেলে এসে তাঁকে গুলি করে পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ৫০০ মিটার দূরেই পূর্ব গুজরা পুলিশ তদন্তকেন্দ্র অবস্থিত।

নিহতের স্ত্রী শাহনাজ বেগম বলেন, ‘এর আগেও আমার স্বামীকে হত্যার চেষ্টা হয়েছিল। সেবার বেঁচে গিয়েছিলেন, এবার আর রক্ষা পাননি। মুখোশ পরে এসে গুলি করে মোটরসাইকেলে পালিয়ে যায় খুনিরা। জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচার চাই।’

একই ইউনিয়নে গত ৫ জানুয়ারি যুবদল নেতা জানে আলম সিকদারকে একই কায়দায় গুলি করে হত্যা করা হয়। তিনি পূর্ব গুজরা ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। কাছাকাছি এলাকায় স্বল্প ব্যবধানে দুটি হত্যাকাণ্ডে সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা বেড়েছে।

এর আগে গত বছরের ২৫ অক্টোবর রাউজান পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের চারা বটতল এলাকায় যুবদল কর্মী আলমগীর আলম একইভাবে মুখোশধারী মোটরসাইকেল আরোহীদের গুলিতে নিহত হন। একই বছরের ৭ অক্টোবর ব্যবসায়ী ও বিএনপি কর্মী আবদুল হাকিমকে হাটহাজারীর মদুনাঘাট এলাকায় গুলি করে হত্যা করা হয়। ওই ঘটনায় সরাসরি অংশ নেওয়া ছয়জনকে গ্রেপ্তার এবং হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধার করেছে পুলিশ।

পুলিশ সূত্র জানায়, গত ১৮ মাস ধরে ধারাবাহিকভাবে হত্যাকাণ্ড ঘটছে রাউজানে। কখনো প্রকাশ্যে গুলি, কখনো ছুরিকাঘাত বা পিটিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। নিহতদের অধিকাংশই বিএনপির স্থানীয় নেতা-কর্মী। কয়েকটি ঘটনায় মোটরসাইকেল আরোহীদের গ্রেপ্তার করা হলেও অনেকেই এখনও অধরা।

রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাজেদুল ইসলাম বলেন, ‘হত্যাকাণ্ডে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হচ্ছে না। প্রতিটি ঘটনায় আসামি গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। প্রযুক্তির সহায়তায় পলাতকদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।’

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর এলাকায় বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা সক্রিয় হন। এরপর দলীয় অভ্যন্তরীণ কোন্দল প্রকাশ্যে আসে। বর্তমান সংসদ সদস্য গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী ও উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক গোলাম আকবর খন্দকারের অনুসারীদের মধ্যে শতাধিকবার সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয়দের দাবি, এসব সংঘর্ষে ৩৫০ জনের বেশি মানুষ গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। সহিংসতার দায় উভয় পক্ষই একে অন্যের ওপর চাপাচ্ছে।

ভিডিও