রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

বন্দরের চাঁদাবাজি নিয়ে মুখোমুখি বিতর্ক

বন্দরের চাঁদাবাজির অভিযোগে ক্ষুব্ধ মেয়র শাহাদাত

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ : ১০ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৬:৫৯

চট্টগ্রাম বন্দরকে কেন্দ্র করে প্রতিদিন দুই থেকে আড়াই কোটি টাকার চাঁদাবাজি হয়— নৌপরিবহন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) সাখাওয়াত হোসেনের এমন মন্তব্য ঘিরে কঠোর প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি বলেন, ‘চাঁদাবাজি তো দূরের কথা, বন্দর নিয়ে আমি কখনো কাউকে ফোন বা তদবির করিনি। অভিযোগ যদি সত্যি হয়, সুনির্দিষ্ট নাম দিন— আমি ব্যবস্থা নেব।’

বুধবার (১০ ডিসেম্বর) সকালে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের কর্ণফুলী হলে আয়োজিত অন্তর্বর্তীকালীন কমিটির বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মেয়র এসব মন্তব্য করেন।

মেয়র শাহাদাত বলেন, ‘কিছু সংবাদমাধ্যম উপদেষ্টার বক্তব্য উদ্ধৃত করে লিখেছে, মেয়ররা নাকি চাঁদার অংশ পেতেন। আমি তা দেখেই ফোন করি। তিনি বলেন— অতীতের মেয়ররা জড়িত ছিলেন। তাহলে নাম বলুন। প্রতিদিন যদি দুই-আড়াই কোটি চাঁদা ওঠে, মাসে ৬০ কোটি, বছরে ৭২০ কোটি টাকা হয়— সেই টাকার হিসাব কোথায়?’

তিনি আরও বলেন, ‘সিটি করপোরেশনকে ন্যায্য ২০০ কোটি টাকার হোল্ডিং ট্যাক্স দেওয়া হয় না। উল্টো চাঁদাবাজিতে আমাদের জড়ানো হয়—এটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’

মেয়র অভিযোগ করেন, বন্দরের ভারী মালবাহী ট্রাক–ট্রেইলারের চাপ চট্টগ্রামের সড়কগুলোর ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলছে। তিনি বলেন, ‘আমার রাস্তাগুলো ৭-৮ টনের জন্য তৈরী, কিন্তু ২০-৪০ টনের ট্রেইলার চলছে। প্রতি বছর ৪০০-৫০০ কোটি টাকা শুধু রাস্তায় খরচ করতে হয়।’

সিটি মেয়র বলেন, সাংবাদিকতা হবে বস্তুনিষ্ঠ ও দায়িত্বশীল। তিনি বলেন, ‘যে সাংবাদিকতায় মানুষের চরিত্রহনন হয়, তার দায় সাংবাদিকদেরও নিতে হয়। প্রেস ক্লাবের উচিত অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার প্রশিক্ষণ চালু করা।’

অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করেন জীবন মুছা এবং জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে কর্মসূচি শুরু হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জাহিদুল করিম কচি এবং সঞ্চালনা করেন গোলাম মাওলা মুরাদ।

অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন অধ্যক্ষ নুরুল আমীন, আবু সুফিয়ান, মোহাম্মদ উল্লাহ, ডা. এ.কে.এম ফজলুল হক, সাগুফতা বুশরা মিশমা।

এছাড়া বক্তব্য দেন সাংবাদিক ওসমান গনি মনসুর, শামসুল হক হায়দরী, কাজী আবুল মনসুর, মুস্তফা নঈম, সালেহ নোমান, শেখর ত্রিপাঠি, জালাল উদ্দিন চৌধুরী, কামরুল ইসলাম চৌধুরী, মো. শহীদুল ইসলাম, ফারুক আবদুল্লাহ, শাহ নেওয়াজ রিটন, ফারুক মুনির, মুজাহিদুল ইসলাম, নিজাম উদ্দিন, মোস্তাফা কামাল পাশা, ফরিদ উদ্দিন, জাহাঙ্গীর আলম, লতিফা আনসারি রুনা, সোহাগ কুমার বিশ্বাস, ইবেন মীর, শরিফুল রুকন, মাহফুজুর রহমান, সরোজ আহমেদ, নুরুল আমিন মিন্টু, শাহাদাত হোসেন আবু সায়েম, জহুরুল আলম, আজিজা হক পায়েল, কিরণ শর্মা, আফসানা নুর নওশীন, অভীক ওসমান, গিয়াস উদ্দিন ও ইঞ্জিনিয়ার কামরুল ইসলাম প্রমুখ।

ভিডিও