রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

প্রতারণা–নির্যাতনের শিকার ৩১০ বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠালো লিবিয়া

স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশ : ৬ ডিসেম্বর ২০২৫, ১১:৩৫

লিবিয়া থেকে প্রতারণা ও মাফিয়া চক্রের নির্যাতনের শিকার আরও ৩১০ জন বাংলাদেশিকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। শুক্রবার মিসরাতা ও ত্রিপোলি অঞ্চল থেকে সরকারি ব্যবস্থাপনায় বিশেষ ফ্লাইটে দেশে ফেরেন তারা। ফিরতি যাত্রীদের বড় অংশই দালাল ও মানবপাচারকারী চক্রের হাতে আটক, নির্যাতন এবং মুক্তিপণ আদায়ের শিকার হয়েছেন।

উন্নত জীবনের আশায় ভিজিট ভিসায় দুই বছর আগে লিবিয়ায় যান শরীয়তপুরের শাহিন মাতবর। পৌঁছানোর কয়েক দিনের মাথায় মাফিয়াদের হাতে আটক হন তিনি। দফায় দফায় নির্যাতনে তার ডান পা ভেঙে যায়। পরিবার-আত্মীয়দের কাছ থেকে ৪৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ সংগ্রহ করে ছাড়া পেলেও এখন তিনি চলাফেরা অক্ষম।

শাহিন বলেন, ‘৪৫ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। পরিবারের কাছে এত টাকা ছিল না। আত্মীয়-স্বজন ভিক্ষা করে আমাকে সাহায্য করেছে।’

মাদারীপুরের কুদ্দুস মোল্লা তিন বছর ধরে লিবিয়ায় নিখোঁজ ছেলের সন্ধান করছেন। নিজেও সেখানে মাফিয়াদের হাতে আটক হয়ে মুক্তিপণ দিয়ে দেশে ফিরেছেন।

তিনি বলেন, ‘আমার ছেলেকে তিন বছর ধরে পাচ্ছি না। আমি মাফিয়াদের কাছে আটক ছিলাম।’

ফেরত আসা আরেকজন জানান, ‘প্রথমে আমাকে তিউনিশিয়ায় বিক্রি করেছে। পরে আলজেরিয়ায় পাঠায়। সেখান থেকে লিবিয়ায় এনে তিন বছর জেল খেটেছি।’

বিমানবন্দরে নিখোঁজ দুই স্বজনের খোঁজে এসেছেন নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের আনোয়ার হোসেন। তার ভাই ও ভাতিজা এক বছর ধরে লিবিয়ায় নিখোঁজ। আনোয়ারের অভিযোগ, দালালরা কখনো বলেন তারা জীবিত, আবার বলেন মারা গেছেন।

স্বজনদের দাবি, ভালো চাকরির প্রলোভনে লিবিয়ায় নিয়ে দালাল চক্র জিম্মি করে মারধর ও নির্যাতন করে মুক্তিপণ আদায় করছে। এই টাকা পরিশোধ করতে গিয়ে নিঃস্ব হয়েছেন অনেক পরিবার।

লিবিয়ার বাংলাদেশ দূতাবাস জানায়, গত তিন মাসে চারটি ফ্লাইটে ১ হাজার ২৩৮ জন বাংলাদেশিকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। আর ২০২৩ সালের জুন থেকে এখন পর্যন্ত যুদ্ধাবস্থার মধ্যেই ৭ হাজার ৮২৯ জন বাংলাদেশি লিবিয়া থেকে ফিরেছেন।

ভিডিও