চট্টগ্রামের অগ্রণী ব্যাংক পিএলসির লালদিঘী পাড় পূর্ব কর্পোরেট শাখার ক্যাশ ইনচার্জের দায়িত্বে ছিলেন কামরুল হোসেন (৪১)। ব্যাংকের ভল্টে টাকা জমা দেয়া, বান্ডিল করাসহ ক্যাশ দেখাশুনা করতেন তিনি। আর এই সুযোগকেই কাজে লাগিয়েছেন কামরুল হোসেন। ভল্টে টাকা জমা দেয়ার সময় ১০০০ টাকার বান্ডিলের ভেতরে তিনি ঢুকিয়ে দিতেন ১০০ টাকা বা ছোট নোট। আর ভেতর থেকে হাজার টাকার নোটগুলো সরিয়ে নিতেন। এমন অভিনব উপায়ে তিনি আত্মসাৎ করেছেন প্রায় ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। আর সেই টাকা সহযোগী জাফরুল্লাহ তানভীরকে (২৫) দিয়ে বিনিয়োগ করিয়েছেন অন্য ব্যবসায়।
রক্ষক সেজে ভক্ষক হওয়া এমন এক ব্যাংক কর্মকর্তা ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে টাকা আত্মসাতের অভিযোগে গত ১০ আগস্ট কোতোয়ালী থানায় মামলা হয়েছে। অগ্রণী ব্যাংক পিএলসি লালদীঘি পূর্ব কর্পোরেট শাখার জেনারেল ম্যানেজার মোস্তাক আহমেদ বাদী হয়ে এ মামলা করেন।
এতে কামরুল হোসেন ও জাফরুল্লাহ তানভীরের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে। মামলায় কামরুল হোসেন ও জাফরুল্লাহ তানভীর গ্রেপ্তার পরবর্তী কারাগারে রয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কোতোয়ালী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. ইকবাল হোসেন বলেন, গ্রাহকের ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে করা মামলায় এজাহারনামীয় দুই আসামি কামরুল হোসেন ও জাফরুল্লাহ তানভীরকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
তিনি জানান, তাদের কাছ থেকে দুটি মোবাইল ফোন, হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ ও তথ্যের রেকর্ডসহ ৬৪ জিবির একটি পেনড্রাইভ জব্দ করা হয়েছে। মামলাটি তদন্তাধীন।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, কামরুল হোসেন ওই শাখার ক্যাশ ও ভল্টের দায়িত্বে ছিলেন। ৯ আগস্ট ব্যাংকের নিয়মিত কাজকর্ম ও লেনদেন শেষে নগদ অর্থের হিসাব এবং ভল্টে সংরক্ষিত নগদ অর্থের হিসাব মেলানোর সময় এই গরমিল ধরা পড়ে। পরবর্তী হিসাব-নিকাশ, ভল্টের হিসাব, সংশ্লিষ্ট রেকর্ডপত্র ও নথি যাচাই করে ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা ঘাটতি পাওয়া যায়।
মামলার এজাহারে কামরুল হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, ভল্টে টাকা জমা দেওয়ার সময় ১ হাজার টাকার বড় বান্ডিলের ভেতরে ১০০ টাকা বা তার কম মূল্যমানের ছোট নোট ঢুকিয়ে বান্ডিল সাজানো হতো। এতে বাইরে থেকে বান্ডিল দেখে ভল্টে টাকা রয়েছে বলে মনে হলেও প্রকৃত অর্থের পরিমাণ কম থাকতো। জাফরুল্লাহ তানভীর দেখাশোনা করার শর্তে ওই অর্থ বিনিয়োগ করে হাটহাজারীর উত্তর বুড়িশ্চর এলাকায় ‘ইশরাত এগ্রো’ নামের একটি গরুর খামারের কার্যক্রম শুরু করা হয়। বর্তমানে সেখানে ৫০ থেকে ৬০টি বিভিন্ন জাতের গরু রয়েছে।
এ ব্যাপারে ওই ব্যাংকের কর্মকর্তা অগ্রণী ব্যাংক অফিসার কল্যাণ সমিতির সভাপতি মোতাহের হোসেন বলেন, ‘ব্যাংকের ওপর আস্থা রেখে মানুষ টাকা জমা রাখে। আপনি যদি রক্ষক হয়ে ভক্ষক হয়ে যান তাহলে তো কিছু করার নেই। এখন দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অডিট শুরু হয়েছে। অডিটে আরও লোকের বিরুদ্ধে আপত্তি আসলে তাদেরকেও মামলায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এ বিষয়ে আমাদের উর্ধতন কর্মকর্তারা সিদ্ধান্ত নিবেন।’
মামলার আসামি জাফরুল্লাহ তানভীরের বাবা আজিম উল্লাহ বলেন, ‘আমার ছেলে কোনো ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারী নয়, অগ্রণী ব্যাংকের লালদীঘি শাখার গ্রাহকও নয়। সে আগে থেকেই গরুর খামারের ব্যবসা করে। অথচ তাকে ব্যাংকের ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা আত্মসাতের মামলায় জড়ানো হয়েছে। আমার ছেলের কাছে এত টাকা দেওয়ার কোনো ব্যাংক রেকর্ড বা প্রমাণও দেখানো হয়নি।’
পূর্বতারা/ইউডি