,

 

প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে চট্টগ্রামে উৎসবের আমেজ, বরণে নানা প্রস্তুতি

স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশ : 8 August 2026, 11:31

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথমবারের মতো চট্টগ্রাম সফরে আসছেন তারেক রহমান। আগামীকাল রবিবার (৯ আগস্ট) একদিনের সফরে কক্সবাজারের মহেশখালী এবং চট্টগ্রামের বাঁশখালী, ফটিকছড়ি ও হাটহাজারীতে একাধিক কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় তৈরি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ। প্রশাসনের পাশাপাশি বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের পক্ষ থেকেও চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি।

জানা গেছে, সফরের শুরুতে সকাল ৯টার দিকে মহেশখালীতে পৌঁছে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর, কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প ও মহেশখালী সমন্বিত উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের কার্যক্রম পরিদর্শন করবেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর দুপুরে হেলিকপ্টারে চট্টগ্রামের বাঁশখালীর বাহারছড়া এলাকায় যাওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। সেখানে সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসন অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন এবং ত্রাণ বিতরণ করবেন। একই অনুষ্ঠানে ১০০ গৃহহারা পরিবারের হাতে নতুন ঘরের চাবি তুলে দেওয়ার কথা রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে বাঁশখালীতে ইতোমধ্যে অনুষ্ঠানস্থল, মঞ্চ, প্যান্ডেল ও হেলিপ্যাড প্রস্তুতের কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিরাপত্তাব্যবস্থাও জোরদার করা হয়েছে। স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরাও বিভিন্ন ইউনিয়ন, পৌরসভা ও ওয়ার্ড পর্যায়ে প্রস্তুতি সভা করছেন।

বাঁশখালী থেকে প্রধানমন্ত্রী ফটিকছড়ির বাবুনগর মাদ্রাসায় যাবেন। সেখানে হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করার কথা রয়েছে। পরে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্যায়ের প্রায় ৫০ জন নেতার সঙ্গে মতবিনিময় করবেন তিনি।

ফটিকছড়িতে প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরেও ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে প্যান্ডেল ও মঞ্চ নির্মাণের পাশাপাশি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ চলছে। হেলিকপ্টার অবতরণের জন্য পেলাগাজিতে অস্থায়ী হেলিপ্যাডও প্রস্তুত করা হয়েছে।

এরপর সড়কপথে হাটহাজারীতে যাওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। সেখানে আল-জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম মাদ্রাসায় গিয়ে হেফাজতে ইসলামের প্রতিষ্ঠাতা আমির প্রয়াত আল্লামা শাহ আহমদ শফীর কবর জিয়ারত করবেন তিনি।

পরে হাটহাজারী সরকারি কলেজ মাঠে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। সেখানে ৩০টি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ঘর নির্মাণের জন্য এক লাখ টাকা করে এবং ১৫ জন প্রতিবন্ধীকে ১০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার কর্মসূচি রয়েছে।

হাটহাজারীতেও প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে প্রশাসনিক তৎপরতা বেড়েছে। সড়ক সংস্কার, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, যানবাহন নিয়ন্ত্রণ, স্বাস্থ্যসেবা ও জরুরি চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। অনুষ্ঠানস্থল ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তার দায়িত্বে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরাও কাজ করছেন।

দিনের শেষ কর্মসূচি হিসেবে সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম নগরের একটি পাঁচ তারকা হোটেলে চট্টগ্রাম বিএনপির সাংগঠনিক সভায় যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। এতে নগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির পাশাপাশি অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের কয়েক শ নেতা অংশ নেবেন বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে।

এদিকে প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা গেছে। বিভিন্ন সড়ক ও কর্মসূচির স্থানগুলোতে সাজসজ্জা, প্রস্তুতি সভা এবং নেতাকর্মীদের সমন্বয়ের কাজ চলছে।

চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সফর নির্বিঘ্ন করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বিভিন্ন বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে নিরাপত্তাব্যবস্থা থাকবে।

চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার ড. জিয়াউদ্দিন জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীকে বরণ করে নিতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির চট্টগ্রাম বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম বলেন, নগরের সভায় তিন সাংগঠনিক ইউনিটের বিএনপি ও ১১টি অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের প্রায় ৫৫০ থেকে ৬০০ নেতা-কর্মী সভায় অংশ নেবেন। নগর ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির কমিটির সদস্য এবং অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের পাশাপাশি উত্তর জেলা বিএনপির কমিটি বিলুপ্ত থাকায় জ্যেষ্ঠ নেতাদের সমন্বয়ে প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা হবে।

ভিডিও