চার বন্ধু মিলে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে গোসল করছিলেন। এ সময় প্রবল ঢেউ ও তীব্র স্রোতের কবলে পড়ে বন্ধুর হাত ফসকে কলেজশিক্ষার্থী ইয়াছিন সাগরে তলিয়ে যান। লাইফগার্ডের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করলেও হাসপাতালে নেয়ার পর চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে কলাতলী ও সুগন্ধা পয়েন্টের মধ্যবর্তী সার্ফিং ক্লাবসংলগ্ন সৈকতে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত ইয়াছিন রামু সরকারি কলেজের উচ্চ মাধ্যমিক দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলায। তিনি পরিবারের সঙ্গে কক্সবাজার শহরের পেশকারপাড়া ফুলবাগ সড়ক এলাকায় বসবাস করতেন। তিনি মো. আলী হোসেনের ছেলে এবং তিন ভাইবোনের মধ্যে সবার বড় ছিলেন।
ইয়াছিনের বন্ধুদের ভাষ্য, সকালে বন্ধু শাহিদ, সোহান ও ওয়ালিদকে নিয়ে সৈকতে বেড়াতে যান তিনি। প্রথমে কলাতলী এলাকায় ঘোরাঘুরির পর চার বন্ধু একসঙ্গে সমুদ্রে গোসল করতে নামেন। এ সময় হঠাৎ প্রবল ঢেউ ও তীব্র স্রোতে ইয়াছিন তলিয়ে যেতে শুরু করলে শাহিদ তার হাত ধরে টেনে তোলার চেষ্টা করেন। কিছুক্ষণ ধরে রাখতে পারলেও স্রোতের তীব্রতায় একপর্যায়ে হাত ছুটে যায় এবং ইয়াছিন ঢেউয়ের মধ্যে নিখোঁজ হয়ে যান।
খবর পেয়ে সি-সেইফ লাইফগার্ডের সদস্যরা উদ্ধার অভিযান চালিয়ে কিছুক্ষণ পর ইয়াছিনকে সমুদ্র থেকে উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। বন্ধু শাহিদের দাবি, উদ্ধারের সময় ইয়াছিনের শরীরে প্রাণের স্পন্দন ছিল এবং মুখ দিয়ে ফেনা বের হচ্ছিল। তবে হাসপাতালে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
সি-সেইফ লাইফগার্ডের কর্মী মো. শুক্কুর জানান, যে এলাকায় ইয়াছিন ও তার বন্ধুরা গোসল করতে নেমেছিলেন, সেখানে লাইফগার্ড মোতায়েন ছিল না। বর্তমানে সমুদ্র অত্যন্ত উত্তাল এবং স্রোতও তীব্র থাকায় তিনি পর্যটক ও স্থানীয়দের শুধুমাত্র লাইফগার্ড নিয়ন্ত্রিত নিরাপদ এলাকায় গোসল করার আহ্বান জানান।
কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী বলেন, আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছে।
পূর্বতারা/ইউডি