,

 

আংশিক চালু এলএনজি টার্মিনাল, গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ শুরু

স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশ : 6 August 2026, 04:29

আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে প্রায় দুই সপ্তাহ বন্ধ থাকার পর মহেশখালীর এক্সিলারেট এনার্জি পরিচালিত ভাসমান এলএনজি (এফএসআরইউ) টার্মিনাল থেকে আবার জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) ভোর ৩টা ১০ মিনিট থেকে টার্মিনালটি দৈনিক ১১ কোটি ৫০ লাখ (১১৫ মিলিয়ন) ঘনফুট হারে গ্যাস সরবরাহ করছে। এতে আমদানি করা এলএনজি থেকে জাতীয় গ্রিডে মোট গ্যাস সরবরাহ বেড়ে ৬৬ কোটি ঘনফুটে পৌঁছেছে।

পেট্রোবাংলার সদস্য (অপারেশন) ড. রফিকুল ইসলাম জানান, ভাসমান সংরক্ষণ ও পুনর্গ্যাসীকরণ ইউনিট (এফএসআরইউ) চালু হওয়ার পর জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। আজ রাতের মধ্যেই গ্যাস সরবরাহ বেড়ে ৭৫০ থেকে ৮০০ এমএমসিএফডিতে পৌঁছাবে।

রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেডের (আরপিজিসিএল) এলএনজি বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, প্রাথমিকভাবে টার্মিনালের একটি ইউনিট চালু করা হয়েছে। বর্তমানে সীমিত পরিসরে গ্যাস সরবরাহ চলছে এবং পর্যায়ক্রমে সরবরাহ বাড়ানো হবে।

এর আগে, গত ২১ জুলাই মহেশখালীর এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের পর কারিগরি ত্রুটির কারণে এর কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। এতে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক প্রায় ৫০ কোটি ঘনফুট গ্যাসের ঘাটতি তৈরি হয়। এলএনজি সরবরাহ কমে যাওয়ায় দেশজুড়ে গ্যাসের চাপ হ্রাস পায় এবং সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েন শিল্প, আবাসিক ও সিএনজি খাতের গ্রাহকরা। একই সঙ্গে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে জ্বালানি সংকট দেখা দেওয়ায় বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিংও বেড়ে যায়।

জ্বালানি খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, টার্মিনালের একটি ইউনিট চালু হওয়ায় পরিস্থিতির উন্নতি শুরু হলেও পুরো সংকট কাটতে আরও কয়েক দিন সময় লাগবে। টার্মিনালটি পূর্ণ সক্ষমতায় চালু হওয়ার পাশাপাশি নিয়মিত এলএনজি কার্গো খালাস নিশ্চিত করা গেলে গ্যাসের চাপ এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন উভয় ক্ষেত্রেই ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।

এর আগে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম জানিয়েছিলেন, প্রাথমিক মেরামত শেষে টার্মিনালটি থেকে দৈনিক ২৮০ থেকে ৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট পর্যন্ত গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হবে। সংশ্লিষ্টদের আশা, ধাপে ধাপে সেই সক্ষমতায় ফিরতে পারলে গত দুই সপ্তাহের গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট অনেকটাই কমে আসবে।

ভিডিও