মাস দুয়েক আগে চাষী ব্র্যান্ডের এক কেজি ওজনের চিনিগুড়া চালের প্যাকেট বিক্রি হতো ১৫০ টাকায়। পাঁচ/দশ টাকা কমবেশিতে অ্যারোমা/সান সাইন ব্র্যান্ডের চিনিগুড়াও বিক্রি হতো বাজারে। নবাব স্পেশাল সোনার চাবি মার্কা খোলা চিনিগুড়া বিক্রি হতো ১২০ টাকা কেজি দরে। বর্তমানে খোলা চিনিগুড়ার দাম ১৫০ টাকা থেকে ১৬০ টাকা। চিনিগুড়া চাল কেজিতে ৩০ টাকা থেকে ৪০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে গেছে।
বর্তমানে সেই চিনিগুড়া চাল (প্যাকেট ১ কেজি) বিক্রি হচ্ছে ১৯০ টাকা/২০০ টাকায়।
চট্টগ্রাম পাহাড়তলী বণিক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এস এম নিজাম উদ্দিন জানান, একটি অসাধু চক্র চিনিগুড়া চাল মজুত করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করছে। একই সঙ্গে অন্যান্য চালের দামও অযৌক্তিকভাবে বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
শনিবার (১ আগস্ট) চট্টগ্রাম নগরীর পাহাড়তলী পাইকারি চালের দেখা গেছে, ৫০ কেজির এক বস্তা চিনিগুড়া চালের দাম ১০০০ টাকা থেকে ১২০০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে গেছে। বর্তমানে ৭ হাজার টাকারও বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।
আতপ ও সিদ্ধ চালের দাম কেজিপ্রতি ২ থেকে ৩ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। আতপ পাইজাম চালের বস্তা (৫০ কেজি) ২০০ টাকা বেড়ে ৩ হাজার ২০০ টাকা, বেতি আতপ চাল ১০০ টাকা বেড়ে ২ হাজার ৮০০ টাকা এবং স্বর্ণা আতপ চাল ১৫০ টাকা বেড়ে ২ হাজার ৭৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এ ছাড়া লতা মিনিকেট চালের বস্তা ২৫০ টাকা বেড়ে ৩ হাজার টাকা, জিরাশাইল চাল ৩৫০ টাকা বেড়ে ৩ হাজার ৫০০ টাকা, সিদ্ধ চাল ৩ হাজার টাকা, মিনিকেট সিদ্ধ চাল ৩ হাজার ১০০ টাকা এবং মিনিকেট আতপ চাল ৩ হাজার ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, এক মাস আগেও এসব চালের দাম বস্তাপ্রতি ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা কম ছিল।
পাহাড়তলীর পাইকারি প্রতিষ্ঠান মা ট্রেডার্স-এর ব্যবস্থাপক সুমন মিয়া বলেন, মিল মালিকদের কাছ থেকেই বেশি দামে চাল সংগ্রহ করতে হচ্ছে। উৎপাদন পর্যায়ে দাম না কমলে খুচরা বাজারেও মূল্য কমানো সম্ভব নয়।
চাল কিনতে আসা ক্রেতা আবদুল আলিম বলেন, প্রতি মাসেই চালের দাম বাড়ছে, কিন্তু কমার কোনো লক্ষণ নেই। এতে ক্রেতার অসন্তোষ বাড়ছে।
পূর্বতারা/ইউডি