,

 

বন্যায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজারে ৩০৯ কোটি টাকার কৃষি ক্ষতি

স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশ : 20 July 2026, 08:39

চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে টানা ভারী বৃষ্টি ও বন্যায় কৃষি খাতে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। দুই জেলায় ১৮ হাজার ৮১৬ দশমিক ৬৬ হেক্টর ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে প্রায় ৮৮ হাজার ৫৩৯ টন ফসল নষ্ট হয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ১ লাখ ৬৯ হাজার ৭২১টি কৃষক পরিবার। কৃষি খাতে মোট আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৩০৯ কোটি টাকা।

চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের চূড়ান্ত ক্ষয়ক্ষতির প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে চট্টগ্রাম জেলায়। এখানে ১৬ হাজার ২৫ দশমিক ৬৬ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অন্যদিকে কক্সবাজারে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ২ হাজার ৭৯১ হেক্টর জমির ফসল।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছে শাকসবজি ও আউশ ধানের আবাদ। দুই জেলায় ৯ হাজার ২০৮ হেক্টর জমির শাকসবজি নষ্ট হয়ে উৎপাদন ক্ষতি হয়েছে ৫৬ হাজার ৭৩০ টন। এতে আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৪০ কোটি ৮২ লাখ টাকা। এ খাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ৭৩ হাজার ৮৭৫টি কৃষক পরিবার।

এ ছাড়া আউশ ধানের ৩০ হাজার ৭৪১ টন উৎপাদন নষ্ট হয়েছে। এতে প্রায় ১৪৬ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন আরও ৫৮ হাজার ২৫০টি কৃষক পরিবার। পাশাপাশি আমন বীজতলা, আদা, হলুদ, পানসহ বিভিন্ন মৌসুমি ফসলেরও উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হয়েছে।

চট্টগ্রামে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে গ্রীষ্মকালীন সবজির আবাদ। জেলার ৫ হাজার ৯০৭ হেক্টর জমির সবজি নষ্ট হয়ে ৪৩ হাজার ৫০ টন উৎপাদন ক্ষতি হয়েছে। এতে আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ৮৬ কোটি ১০ লাখ টাকা। এছাড়া ৯৬০ দশমিক ৬৬ হেক্টর আমন বীজতলা, ৫২০ টন আদা, ১১৮ দশমিক ৩৬ টন হলুদ এবং ৭৮ হেক্টর পানের বরজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

অন্যদিকে কক্সবাজারে ২ হাজার ৭৯১ হেক্টর জমির ফসল নষ্ট হয়ে ১৯ হাজার ৩১১ দশমিক ৩০ টন উৎপাদন ক্ষতি হয়েছে। জেলায় কৃষি খাতে ক্ষতির পরিমাণ ৮৬ কোটি ৬১ লাখ ৪৯ হাজার টাকা। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ৪৩ হাজার ২১০টি কৃষক পরিবার।

কক্সবাজারে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে শাক-সবজিতে। ৬৮৪ হেক্টর জমির সবজি নষ্ট হয়ে ১৩ হাজার ৮৮০ টন উৎপাদন ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া ১ হাজার ৭৯৭ হেক্টর আউশ ধান, ৪২ হেক্টর পানের বরজ এবং ২৬৮ হেক্টর আমন বীজতলাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মরিচ, কলা, পেঁপে, পেঁয়াজ, ভুট্টা ও চিনাবাদামসহ বিভিন্ন ফসলও বন্যার পানিতে নষ্ট হয়েছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, অনেক এলাকায় বন্যার পানি নেমে গেলেও জমিতে পানি ও পলি জমে থাকায় নতুন করে চাষাবাদ শুরু করতে পারছেন না কৃষকরা। এতে আগামী মৌসুমের আবাদ নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক কৃষিবিদ মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ বলেন, টানা বৃষ্টি ও বন্যায় চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের বেশ কয়েকটি উপজেলা ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য প্রণোদনা ও প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। পাশাপাশি উপজেলা পর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তারা মাঠে কৃষকদের কারিগরি পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন।

ভিডিও