,

 

ছাদবাগানে মশা, যায় না ঘরে বসা

উজ্জ্বল দত্ত

প্রকাশ : 20 July 2026, 05:06

বৃষ্টি পরবর্তী সময় আবাসিক ভবনের ছাদবাগানগুলো যেন মশার আঁতুড়ঘরে পরিণত হয়েছে। ছাদ বাগানের টবে জমে থাকা পানিতে ঘটছে মশার বংশবিস্তার। মশার কামড়ে মানুষ ডেঙ্গু,চিকনগুনিয়া রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। ছাদবাগানে পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি নিয়ে সরকারি বিভিন্ন সংস্থার উদ্যোগ থাাকলেও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) পক্ষ থেকে কোন উদ্যোগ নেয়। তবে ছাদবাগানে পরিচ্ছন্নতা নিয়ে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগ থাকলেও চসিকের কোনো কার্যক্রম চোখে পড়ে না । এমন অবস্থায় একদিকে ডেঙ্গুর চোখ রাঙানি, অন্যদিকে মাথার ওপর মশার বসবাস পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠছে।

ডেঙ্গু নিয়ে চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার বিকাল ৫ টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে ডেঙ্গুতে ২৯ জন আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১৬ জন, জেনারেল হাসপাতালে ৭ জন, উপজেলা হাসপাতালে ১ জন, বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতালে ৫ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন।

গতকাল রোববার গত ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে মোট ১৭ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছিল। চলতি বছর জুলাই পর্যন্ত সাত মাসে মোট ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ৫৫৮ জন। মারা গেছেন ২ জন।

এদিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ডেঙ্গু কর্ণারে গিয়ে দেখা গেছে, সেখানে মোট ৩২ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এ ব্যাপারে চমেক হাসপাতালের সহকারি অধ্যাপক ডা. মুছা ইসলাম বলেন, বর্তমানে ডেঙ্গু কর্ণারে ভর্তি রোগীদের চিকিৎসা চলছে। নগরের চেয়ে উপজেলার রোগী তুলনামূলক বেশি। ডেঙ্গু রোগ প্রতিরোধে সবাইকে স্ব স্ব অবস্থান থেকে সচেতন হতে হবে।

এদিকে, ডেঙ্গু প্রতিরোধে নগর জুড়ে চসিকের নিয়মিত কর্মসূচি চলমান রয়েছে। সংস্থাটি এবারের বাজেটেও মশা নিধনে ২৫ কোটি টাকা বরাদ্দ রেখেছে। পানি জমে মশার বংশবিস্তার না ঘটতে পারে সেজন্য নগরীর প্রায় ৯৭২ কিলোমিটার নালা নর্দমা পরিচ্ছন্নতা, ওয়ার্ড এলাকায় ওষুধ ছিটানোসহ নানামুখী কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

এ ব্যাপারে চসিকের উপপ্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা প্রণব কুমার শর্মা বলেন, বৃষ্টি হলে আমাদের কাজ বেড়ে যায়। নাল-নর্দমা পরিস্কার করা, পানি প্রবাহ ঠিক রাখতে কর্মীরা নিরলস কাজ করছে। বাসাবাড়ির ছাদ,আঙিনা, বাসার আশপাশে কোথাও যেন পানি জমে না থাকে সেজন্য সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো হয়।

তবে আবাসিক ভবনের ছাদবাগানে পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি চালানো চসিকের পক্ষে কঠিন বলেছেন তিনি। এই কর্মকর্তা বলেন, ডেঙ্গু নিয়ে এখন জনগণ সচেতন। তারা নিজেরা বাসাবাড়ির ছাদ বা ছাদবাগান, আঙিনা ও আশপাশ পরিস্কার করেন। সিটি কর্পোরেশনের পক্ষে ভবনের ছাদে পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি চালানো সম্ভব নয়। তবে অপরিচ্ছন্ন ছাদবাগানের ব্যাপারে তথ্য পেলে চসিকের পক্ষ থেকে অভিযান চালানো হয়।

ডেঙ্গুরোগ প্রতিরোধ ও চট্টগ্রামকে পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। আগামী ২৫ জুলাই থেকে সরকারি দপ্তর বা সরকারি আবাসন ভবনের ছাদে পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি শুরুর উদ্যোগ নিয়েছে সংস্থাটি।

এ ব্যাপারে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, ছাদবাগান একটি ভালো উদ্যোগ। তবে অভিযোগ রয়েছে, পরিচর্যার অভাবে নিচতলার বাসিন্দারা ক্ষতিগ্রস্ত হন। পানি চুইয়ে পড়ে ভোগান্তি সৃষ্টি হয়। এক্ষেত্রে অবহেলা বা গাফিলতি প্রমাণিত হলে সরকারি বাসা বরাদ্দ বাতিলসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পূর্বতারা

ভিডিও