মৌসুমে কৃষিপণ্যের দাম ধসে পড়া এবং মৌসুম শেষে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি রোধে ইউনিয়নভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎচালিত মিনি কোল্ডস্টোরেজ নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে প্রকৃত কৃষকদের সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে চালু করা হচ্ছে কৃষি কার্ড।
শনিবার (৪ জুলাই) চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে মৎস্য ও কৃষি বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভার আগে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ।
কৃষিমন্ত্রী বলেন, সংরক্ষণ সুবিধার অভাবে মৌসুমে টমেটো, গাজর, কাঁচা মরিচসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্যের দাম এত কমে যায় যে অনেক কৃষক খেত থেকেই ফসল তোলেন না। অথচ কয়েক মাস পর একই পণ্যের দাম কয়েক গুণ বেড়ে যায়। এ সমস্যা সমাধানে ইউনিয়নভিত্তিক মিনি কোল্ডস্টোরেজ নির্মাণ করা হবে।
তিনি জানান, এসব কোল্ডস্টোরেজ মূলত সৌরবিদ্যুৎ দিয়ে পরিচালিত হবে। স্থানীয় সমবায় বা কৃষক সংগঠন এগুলো পরিচালনা করবে এবং প্রয়োজন হলে জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ ব্যবহার করা হবে। এতে কৃষকেরা উৎপাদিত পণ্য সংরক্ষণ করে সুবিধাজনক সময়ে বিক্রি করতে পারবেন এবং ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত হবে।
কৃষিমন্ত্রী আরও জানান, কৃষকদের জন্য চালু হচ্ছে কৃষি কার্ড। এর মাধ্যমে দেশের প্রকৃত কৃষকদের একটি কেন্দ্রীয় তথ্যভান্ডার তৈরি করা হবে। ধান, গম বা পাটচাষির পাশাপাশি লবণচাষি, মাছচাষি, পশুপালক, সুপারি, নারকেল ও পানচাষিরাও এ কার্ডের আওতায় আসবেন।
তিনি বলেন, কৃষি কার্ডের মাধ্যমে সরকারি প্রণোদনা, ভর্তুকি ও অন্যান্য সহায়তা সরাসরি কৃষকদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে। একই সঙ্গে উৎপাদন ও বাজারের চাহিদার তথ্য বিশ্লেষণ করে পরিকল্পিত উৎপাদন নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
ধান সংগ্রহের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ইউনিয়নভিত্তিক নির্ধারিত স্থানে সরকারি ধান ক্রয়ের ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এতে কৃষকদের আগেই জানিয়ে দেওয়া হবে কোথায়, কখন এবং কী দামে সরকার ধান কিনবে।
খাদ্য আমদানির বিষয়ে তিনি বলেন, দেশে ধানের উৎপাদন বৃদ্ধি পেলেও জনসংখ্যার তুলনায় চাহিদা বেশি। এছাড়া বন্যা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে প্রতিবছর কিছু ফসলের ক্ষতি হওয়ায় খাদ্য আমদানির প্রয়োজন হয়। এ ক্ষতি কমাতে আগাম পাকে এমন ধানের জাত উদ্ভাবন এবং আধুনিক ফসল সংগ্রহ প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছে সরকার।
মন্ত্রী আরও জানান, সরকার ইতোমধ্যে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করেছে এবং সেচব্যবস্থা উন্নয়নে খাল পুনঃখননের উদ্যোগ নিয়েছে। পাশাপাশি জাটকা সংরক্ষণ মৌসুমে জেলেদের সহায়তা ও বিকল্প আয়ের ব্যবস্থা নিশ্চিত করার উদ্যোগও চলমান রয়েছে।
সভায় মৎস্য, প্রাণিসম্পদ ও কৃষি বিভাগের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা এবং বিভাগীয় ও জেলা প্রশাসনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।