চট্টগ্রামের বৃহত্তম উপজেলা ফটিকছড়িকে বিভক্ত করে ‘ফটিকছড়ি উত্তর’ নামে নতুন উপজেলা গঠনের প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। প্রস্তাবিত উপজেলার সদর দপ্তর ভুজপুরে না করে দাঁতমারা ও নারায়ণহাট ইউনিয়নের মাঝামাঝি ‘যৌক্তিক স্থানে’ স্থাপন এবং সুয়াবিল ইউনিয়নকে বর্তমান ফটিকছড়ি উপজেলার সঙ্গে বহাল রাখার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
এসব দাবিতে মঙ্গলবার (৩০ জুন) মানববন্ধন, বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত হেয়াকো বাজারসহ ফটিকছড়ি-ঢাকা-খাগড়াছড়ি মহাসড়কের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে একযোগে কর্মসূচি পালিত হয়। এতে মহাসড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।
বক্তারা অভিযোগ করেন, স্থানীয় জনগণের মতামত ও গণশুনানি ছাড়াই নতুন উপজেলার সদর দপ্তর ভুজপুরে স্থাপনের চেষ্টা চলছে। তারা ভৌগোলিক সুবিধা বিবেচনায় নারায়ণহাট ও দাঁতমারার মধ্যবর্তী স্থানে সদর দপ্তর স্থাপনের দাবি জানান এবং তা না হলে আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেন।
হেয়াকো বাজারে আয়োজিত সমাবেশে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান একরামুল হক বাবুল, নুরুল আমিন আজাদ, একরামুল হক একরাম, হাসান শামসুদ্দিন, ইদ্রিস মিয়া ইলিয়াছ, মুফতি হাবিব উল্যাহ আজিজী ও সাংবাদিক কামাল উদ্দিন বক্তব্য দেন।
এদিকে বালুটিলা বাজার এলাকায় বিক্ষোভকারীরা মহাসড়কে টায়ার ও গাছ ফেলে অবরোধ সৃষ্টি করলে প্রায় এক ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে। নারায়ণহাটেও শিক্ষার্থী ও স্থানীয়রা মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন।
পৃথক কর্মসূচিতে সুয়াবিল ইউনিয়নের বাসিন্দারা নতুন উপজেলায় অন্তর্ভুক্তির বিরোধিতা করে বর্তমান ফটিকছড়ি উপজেলার সঙ্গেই থাকার দাবি জানান। তাদের যুক্তি, বর্তমান উপজেলা সদর থেকে সুয়াবিলের দূরত্ব কম হওয়ায় প্রশাসনিক ও যোগাযোগ সুবিধা বজায় রাখা প্রয়োজন।
প্রসঙ্গত, আগামী ১ জুলাই প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস-সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির (নিকার) সভায় নতুন উপজেলা গঠনের খসড়া প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য উপস্থাপিত হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগেই আন্দোলনকারীরা সতর্ক করে বলেছেন, জনগণের মতামত উপেক্ষা করা হলে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।