চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে এক নারীকে গণধর্ষণের পর হত্যা এবং মরদেহ খণ্ডবিখণ্ড করে ফেলে দেওয়ার ঘটনায় আরও দুই আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) চট্টগ্রাম জেলা। নিখোঁজের প্রায় নয় মাস পর ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে ওই নারীর পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার কথাও জানিয়েছে সংস্থাটি।
বিষয়টি নিশ্চিত করেন পিবিআই চট্টগ্রাম জেলার পুলিশ সুপার এসএম রফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গত ২০ জুন রাতে ফেনী সদর এলাকা থেকে মামলার আসামি মো. আলাউদ্দিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরদিন হাটহাজারী থানা এলাকা থেকে মো. রামজান আলীকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার দুজন হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।
পিবিআই সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ২৬ জুলাই ফটিকছড়ির ভূজপুর এলাকায় রিনা আক্তার নিখোঁজ হন। ওই দিন বিকেলে তাকে জোর করে স্থানীয় আব্দুল মান্নানের টিলায় থাকা একটি টিনের ঘরে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর থেকে তার কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। স্থানীয় একটি মসজিদের ইমাম দুর্গন্ধের বিষয়টি জানালে ৫ আগস্ট মান্নানের টিলার পাশের একটি খাদ থেকে খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পরে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে সেটি রিনা আক্তারের মরদেহ বলে শনাক্ত করা হয়। এ ঘটনায় রিনার মা বাদী হয়ে আদালতে অভিযোগ দায়ের করেন। আদালতের নির্দেশে ২০২৫ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর ভূজপুর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা হয়। পরদিন মামলার তদন্তভার নেয় পিবিআই।