বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬

চট্টগ্রামে প্রবীণদের হাসিতে মুখর ছোট্ট এক ঠিকানা

সামিহা মাহাদিয়া

প্রকাশ : ২৩ জুন ২০২৬, ০৮:১২

জীবনের দীর্ঘ পথচলা শেষে যখন মানুষ অবসরের দোরগোড়ায় এসে দাঁড়ায়, তখন অনেকের জীবনেই নেমে আসে নিঃসঙ্গতা। কর্মব্যস্ততা, পারিবারিক দূরত্ব কিংবা সময়ের পরিবর্তনে কমে যায় গল্প করার মানুষ। আর সেই একাকিত্ব দূর করতেই চট্টগ্রামে গড়ে উঠেছে ‘প্রবীণ নাগরিক ফোরাম’— যেখানে বয়স নয়, বন্ধুত্বই হয়ে উঠেছে নতুন পরিচয়।

চট্টগ্রাম নগরীর ব্যস্ততম এলাকা চেরাগীর মোড়। মোমিন রোড ধরে একটু এগোলেই রাস্তার দুই পাশে চোখে পড়ে সারি সারি ফুলের দোকান। সেখানেই একটি সবুজ সাইনবোর্ড দৃষ্টি কাড়ে পথচারীদের। বোর্ডে লেখা— ‘প্রবীণ নাগরিক ফোরাম’।

দরজা ঠেলে ভেতরে ঢুকতেই দেখা যায় এক ভিন্ন জগৎ। কেউ দাবার বোর্ডে চাল দিচ্ছেন, কেউ বইয়ের পাতায় ডুবে আছেন, আবার কেউ টেলিভিশনের সংবাদে মনোযোগী। বয়সের ছাপ থাকলেও প্রাণের উচ্ছ্বাসে নেই কোনো ঘাটতি। হাসি-আড্ডায় মুখর পুরো পরিবেশ।

কর্মব্যস্ত শহরের মাঝখানে প্রবীণদের এমন মিলনমেলা সহজেই নজর কাড়ে। তিন কক্ষের ছোট্ট জায়গাটিকে তারা সাজিয়েছেন নিজেদের দ্বিতীয় বাড়ি হিসেবে। রয়েছে রান্নাঘর, ফ্রিজ, ওভেন, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা (এসি), আইপিএস এবং স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণের জন্য ডায়াবেটিস ও রক্তচাপ মাপার সুবিধা। সব মিলিয়ে এটি যেন প্রবীণদের জন্য স্বস্তি ও সঙ্গের এক নিরাপদ ঠিকানা।

ফোরামের সদস্যরা জানান, বর্তমানে তাদের সদস্যসংখ্যা প্রায় ৮০ জন। একাকিত্বই তাদের অনেককে এখানে টেনে এনেছে। প্রতিদিন এখানে এসে তারা গল্প করেন, স্মৃতিচারণ করেন, সুখ-দুঃখ ভাগাভাগি করেন। বিভিন্ন উৎসব ও বিশেষ দিনও একসঙ্গে উদযাপন করেন। ফলে হারিয়ে যেতে বসা সামাজিক বন্ধনগুলো যেন নতুন করে ফিরে আসে।

প্রবীণদের প্রত্যাশা, দেশের বিভিন্ন এলাকায় এমন আরও উদ্যোগ গড়ে উঠুক। তাদের মতে, জীবনের শেষ অধ্যায়ে মানুষের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন সঙ্গ, সম্মান ও মানসিক প্রশান্তি। তাই সরকারের উদ্যোগে প্রবীণদের জন্য স্থায়ী ও সুপরিকল্পিত মিলনকেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করা হলে অনেকেই একাকিত্ব থেকে মুক্তি পাবেন।

ভিডিও