বান্দরবানের লামা উপজেলায় কর্মরত সরকারি কর্মজীবীরা চরম আবাসন সংকটে ভুগছেন। উপজেলায় কর্মরত ১,৩২৫ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর থাকার জন্য কোনো সরকারি ডরমিটরি বা কোয়ার্টার নেই। একদিকে দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চল, অন্যদিকে আবাসন সংকট; এর মধ্যেও কর্মজীবীরা সরকারের নানামুখী উন্নয়ন বাস্তবায়ন ও নাগরিক সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। উপজেলায় কর্মর্ত সরকারি কর্মজীবীদের জন্য আবাসন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি হয়ে উঠেছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, স্থানীয় বাজারের বিভিন্ন এলাকার সাধারণ মেসে ও জরাজীর্ণ বাসা-বাড়িতে কর্মচারীরা গাদাগাদি করে বসবাস করছেন। আবার কেউ কেউ বাধ্য হয়ে থাকছেন অতি সাধারণ পাহাড়ি ঘরবাড়িতে, যেখানে ন্যূনতম নাগরিক সুযোগ-সুবিধাও অনুপস্থিত। অনেকেই একটু স্বাচ্ছন্দ্যে বসবাসের জন্য বাসা ভাড়া নিয়েছেন কর্মস্থল থেকে দূরবর্তী কোনো এলাকায়। এমন অবস্থায় আবাসন সমস্যার নেতিবাচক প্রভাব সরাসরি পড়ছে সরকারি দাপ্তরিক কাজে। দূরবর্তী স্থান থেকে যাতায়াত করতে গিয়ে সময় অপচয়ের পাশাপাশি ব্যাহত হচ্ছে নাগরিক সেবা।
উপজেলা হিসাবরক্ষণ অফিস সূত্রে জানা গেছে, বন বিভাগ ও পোস্ট অফিস বাদে বর্তমানে লামা উপজেলায় সরকারের ৩৩টি দপ্তর রয়েছে। এসব দপ্তরে বর্তমানে ১৪২ জন কর্মকর্তা এবং ১,১৮৩ জন কর্মচারীসহ সর্বমোট ১,৩২৫ জন কর্মী কর্মরত আছেন।
লামা উপজেলা প্রশাসনের উপপ্রশাসনিক কর্মকর্তা উচিংমে চাক বলেন, “নারী হিসেবে দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় আবাসন সুবিধা না থাকাটা সবচেয়ে বড় নিরাপত্তা সংকট। পরিবার নিয়ে থাকার মতো ভালো বাসা এখানে পাওয়াই যায় না, আর পেলেও ভাড়া আকাশচুম্বী।”
সহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তা বামং সিং মার্মা বলেন, “অফিস শেষ করে একটু শান্তিতে যে বিশ্রাম নেব, সেই পরিবেশটুকুও নেই। ভাঙাচোরা মেসবাড়িতে থাকতে হয়। ডরমিটরি থাকলে আমাদের কাজের মনোযোগ আরও বাড়ত।”
সহকারী তথ্য অফিসার মোহাম্মদ রাশেদুল হক রাসেদ বলেন, “দূর-দূরান্ত থেকে বদলি হয়ে আসা চাকরিজীবীদের কর্মস্থলে যোগ দিয়েই পড়তে হচ্ছে চরম আবাসন সংকটে। সুনির্দিষ্ট আবাসন ব্যবস্থা না থাকায় স্থানীয় এলাকায় চড়া মূল্যে বাসা ভাড়া নিতে বাধ্য হচ্ছেন তারা। অনেকেই বাধ্য হয়ে পরিবার-পরিজন দূরে রেখে একাকী মেস জীবন কাটাচ্ছেন।”
উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা কাঞ্চন দে বলেন, “পাহাড়ি অঞ্চলের মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে যারা নিজেদের শ্রম ও মেধা উৎসর্গ করছেন, তাদের ন্যূনতম মৌলিক চাহিদা পূরণ করা সময়ের দাবি। লামায় সরকারি কর্মচারীদের জন্য একটি আধুনিক ডরমিটরি বা কোয়ার্টার নির্মাণ এখন আর কেবল বিলাসিতা নয়, বরং সেবার মান বজায় রাখার জন্য অত্যন্ত জরুরি।”
লামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মঈন উদ্দিন জানান, বান্দরবানের ৭টি উপজেলার মধ্যে একমাত্র লামা উপজেলায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কোনো আবাসন ব্যবস্থা নেই। কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য আবাসিক গেজেটেড কোয়ার্টার ও ডরমিটরি নির্মাণের ব্যাপারে স্থানীয় সরকার বিভাগে চিঠি পাঠানো হয়েছে।
পূর্বতারা/ইউডি