নারী ও শিশু নির্যাতন মামলার বিচার ৬ মাস বা ১৮০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তির বিধান থাকলেও নানা জটিলতায় তা আটকে যাচ্ছে। ছয় মাসের বিচারের রায় পেতে ভুক্তভোগীদেরকে বছরের পর বছর অপেক্ষা করতে হচ্ছে। দ্রুত সময়ে বিচার নিষ্পত্তি না হওয়ায় বিচার ব্যবস্থার প্রতি অনাস্থা সৃষ্টির পাশাপাশি সমাজে বাড়ছে অপরাধপ্রবণতা।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, বিচারের সুবিধার্থে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাশাপাশি দেশে বিশেষায়িত ‘শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল’ গঠন করা হয়েছে। ২০২৫ সালের ২০ অক্টোবর চট্টগ্রাম জেলা ও মহানগরের জন্য পৃথক দুটি শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের গেজেট প্রকাশ করা হয়। ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ট্রাইব্যুনাল দুটির কার্যক্রম শুরু হলেও বিচারিক কার্যক্রম শুরু হয় একই বছরের ১২ জানুয়ারি থেকে। যেসব মামলায় ভিকটিমের বয়স অনুর্ধ ১৬ বছর, সেসব মামলা নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনাল থেকে শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে হস্তান্তর করা হয়েছে। বর্তমানে চট্টগ্রামের দুইটি শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে এমন মোট ১ হাজার ৯২টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এরমধ্যে জেলার ১৭ থানার ৪১৫টি এবং নগরের ১৬ থানার ৬৭৭টি মামলা রয়েছে।
তবে আইনি জটিলতার কারণে চট্টগ্রামের সাতটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল থেকে এখনো অনেক মামলা শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে হস্তান্তর করা হয়নি।
চট্টগ্রাম শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর আলমগীর মোহাম্মদ ইউনুস বলেন, শিশু নির্যাতনের মামলার বিচার নিষ্পত্তিতে কিছু প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। মামলার তারিখে সাক্ষীর অনুপস্থিতি, দেরিতে ওয়ারেন্ট পৌঁছানো এবং ঠিকানা পরিবর্তনের কারণে বিচার প্রক্রিয়া দীর্ঘ হয়। এ ছাড়া ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদন পেতে দেরি হওয়ায় তদন্ত কর্মকর্তারা আদালতে নির্ধারিত সময়ে চার্জশিট দিতে পারেন না। চার্জশিট দাখিল ও সাক্ষ্যগ্রহণ দ্রুত সম্পন্ন করা গেলে মামলার নিষ্পত্তিও দ্রুত সম্ভব।
পিপি মাহমুদ-উল আলম চৌধুরী মারুফ বলেন, বাদী, ভুক্তভোগী ও সাক্ষীরা ধার্য তারিখে যথারীতি আদালতে উপস্থিত হলে মামলাগুলোর বিচার দ্রুত নিষ্পত্তি সম্ভব। তাছাড়া আদালতেরও কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। বিপুলসংখ্যক মামলা, জনবল সংকট ও বিচারিক চাপের মধ্যেও আদালত দ্রুত বিচার নিশ্চিতের চেষ্টা করছে। তবে বাদী ও সাক্ষীদের সচেতন সহযোগিতা ছাড়া এ কাজ পুরোপুরি সম্ভব নয়। শিশু সংক্রান্ত অপরাধের মামলায় কোন আপস করা যায় না।
চট্টগ্রাম শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল সূত্র জানায়, ২০২৫ সালের ২০ অক্টোবর চট্টগ্রাম জেলা ও মহানগরের জন্য পৃথক দুটি শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের গেজেট প্রকাশ করা হয়। ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি চট্টগ্রাম চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবনে ট্রাইব্যুনাল দুটির কার্যক্রম শুরু হলেও বিচারিক কার্যক্রম শুরু হয় একই বছরের ১২ জানুয়ারি থেকে। অবশ্য নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) আইন, ২০২৬-এর আলোকে গঠিত ‘শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল’ ২০২৫ সালের ২৫ মার্চ থেকে কার্যকর বলে গণ্য।
পূর্বতারা/ইউডি