বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬

লোহাগাড়ায় বোরো ধানের বাম্পার ফলন, হাসি ফুটেছে কৃষকের মুখে

লোহাগাড়া প্রতিনিধি

প্রকাশ : ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ০১:৫৪

চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলাজুড়ে চলতি মৌসুমে বোরো ধানের বাম্পার ফলনে কৃষকদের মাঝে বইছে খুশির জোয়ার। উপজেলার বিভিন্ন বিলজুড়ে এখন সোনালী ধানের সমারোহ। কোন কোন এলাকার ক্ষেতে কৃষকেরা ধান গাছ কাটতে ব্যস্ত। আবার কেউ কেউ ক্ষেতের পরিচর্যা করে যাচ্ছেন ভালো ফলনের আশায়।

স্থানীয়রা জানান, সেচ ব্যবস্থার উন্নতির কারণে এ বছর বোরো চাষে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। পদুয়া, আমিরাবাদ, চরম্বা, কলাউজান ও চুনতির বিভিন্ন এলাকায় রাবার ড্যাম স্থাপনের ফলে খাল ও নদী থেকে সহজেই সেচ সুবিধা পাওয়া গেছে। এছাড়া ডলু নদী, থমথমিয়া, হাতিয়া ও কূলপাগলীসহ বিভিন্ন খাল থেকে যান্ত্রিক পদ্ধতিতে পানি তুলে চাষাবাদ করা হয়েছে। অনেক কৃষক আবার গভীর নলকূপের ওপর নির্ভর করেছেন।

পদুয়া ইউনিয়নের নাওঘাটার কৃষক মো. ইউনুচ জানান, সেচ সুবিধা থাকায় তিনি ১৭ কানি জমিতে বোরো ধানের চাষ করেছেন। উন্নত জাতের বীজ ব্যবহার করে ভালো ফলনের আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, অনুকূল আবহাওয়া থাকলে প্রতি কানিতে ১০৫ থেকে ১১০ আড়ি ধান উৎপাদন সম্ভব।

অন্যদিকে, আমিরাবাদ ইউনিয়নের ডলুকূল এলাকার কৃষক ফরিদুল ইসলাম বলেন, তাঁদের এলাকায় পানি সংকট থাকলেও গভীর নলকূপের সাহায্যে চাষাবাদ করা হয়েছে। কিছুটা পোকার আক্রমণ ও পানির অভাব থাকলেও তিনি প্রতি কানিতে ৮০ থেকে ৯০ আড়ি ধান পাওয়ার আশা করছেন।

বড়হাতিয়া ইউনিয়নের কুমিরাঘোনা এলাকার কৃষকেরাও একই অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন। রাবার ড্যাম না থাকলেও নলকূপের মাধ্যমে সেচ দিয়ে তারা বোরো চাষ করেছেন। যথাযথ পরিচর্যার ফলে তারাও ভালো ফলনের আশা করছেন।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। ৪ হাজার ৪০৫ হেক্টরের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে আবাদ হয়েছে ৫ হাজার ৩৯৫ হেক্টরে। এতে প্রায় ১০ হাজারের বেশি কৃষক যুক্ত রয়েছেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কাজী শফিউল ইসলাম জানান, সময়মতো পরামর্শ ও সহায়তা দেওয়ার ফলে এ বছর বোরো ধানের ফলন অত্যন্ত সন্তোষজনক হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া বজায় থাকলে কৃষকেরা কাঙ্ক্ষিত উৎপাদন পাবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

ভিডিও