বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬

‘বাপ কা বেটি’ শাকিলা ফারজানা, চট্টগ্রামের একমাত্র সংরক্ষিত সাংসদ

স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশ : ২০ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:৪৮

‘বাপ কা বেটি’ ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানা। ‘বাপ কা বেটি’ যখন বলা হল, মেয়ের আগে বাবার গল্পটিও বলতে হয়। বাবা সৈয়দ ওয়াহিদুল আলম ছিলেন কেন্দ্রীয় বিএনপির শীর্ষ একজন নেতা। বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে হাটহাজারী আসনের তিনবারের নির্বাচিত সাংসদ, হাটহাজারী উপজেলার চেয়ারম্যানও হয়েছেন একবার। তারপর জাতীয় সংসদের হুইপ, বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা, চট্টগ্রাম নগর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক তৃণমূল থেকে হাইকমান্ড সব নেতৃত্বেই ছিলেন সৈয়দ ওয়াহিদুল আলম।

সেই ওয়াহিদুল আলমের মেয়ে ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানা এবার মনোনীত হয়েছেন জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য।

সোমবার (২০ এপ্রিল) বিএনপি মনোনীত ৩৬ নারীর নাম ঘোষণা করা হয়েছে। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী যখন শাকিলার নামটি ঘোষণা করছিলেন, সেই আনন্দ তখন ইথারে ভেসে আঁচড় পড়েছে চট্টগ্রামের উপকূলে। কারণ চট্টগ্রাম থেকে একমাত্র শাকিলা ফারজানাই পেয়েছেন দলের মনোনয়ন। এ যেন বাবার অসমাপ্ত স্বপ্ন পূরণে পরম্পরার এক নতুন পদযাত্রা।

তবে এতটা পথ পেরিয়ে আসতে শাকিলাকে পেরুতে হয়েছে কণ্টকাকীর্ণ পথ। জঙ্গি অর্থায়নের মিথ্যা অভিযোগ, কারাবাস , নির্যাতন, মনোনয়ন বঞ্চনা, ত্যাগ-তিতিক্ষা, পেশাগত প্রতিযোগিতা,দ্বন্দ্ব- বহুমাত্রিক অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ এক নারী ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানা।

মনোনীত হওয়ার পর উচ্ছ্বসিত ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানা বলেন, দল আমাকে মনোনীত করেছে। এজন্য কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি, যিনি আমার প্রতি আস্থা রেখে দেশ গড়ার সুযোগ করে দিয়েছেন। তাঁর এই বিশ্বাস আমার জন্য গর্বের, প্রেরণার এবং দায়বদ্ধতার এক অনন্য প্রতীক। যেসব সম্মানিত ব্যক্তিত্ব বিভিন্নভাবে আমাকে সহযোগিতা করেছেন এ অবস্থানে পৌঁছাতে, তাদের প্রতিও জানাই আন্তরিক কৃতজ্ঞতা’।

তিনি আরও বলেন, আমার মরহুম বাবা, মা এবং আমার একমাত্র ছোট বোনের অফুরন্ত দোয়ায় আজ আমি এ পর্যন্ত আসতে পেরেছি। দেশ-বিদেশের বিভিন্ন প্রান্তে থাকা আমার প্রিয় মানুষেরা, আপনাদের দোয়া, ভালোবাসা ও সমর্থনই আমাকে আজকের এই বহু কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যে পৌঁছে দিয়েছে। আপনাদের প্রতি রইলো অশেষ ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা। বিশেষভাবে কৃতজ্ঞতা জানাই আমার প্রিয় হাটহাজারীবাসীকে। দেশের মানুষের জন্য আরও বড় পরিসরে কাজ করতে চাই’।

শিক্ষাজীবন

ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি ও এলএলএম সম্পন্ন করেছেন। পরবর্তীতে ইউনিভার্সিটি অব লন্ডন থেকে আবার এলএলবি ডিগ্রি অর্জন করেন। লন্ডনের দ্য সিটি ল’ কলেজ থেকে পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমা সম্পন্ন করেছেন।

পেশাগত ও রাজনৈতিক জীবন

১৯৭৭ সালের ২৫শে অক্টোবর চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার চিকনদণ্ডী ইউনিয়নের লালিয়ারহাটস্থ বড় মীরা পাড়া শাকিলা ফারজানার জন্ম। তিনি সৈয়দ ওয়াহিদুল আলমের জ্যেষ্ঠ কন্যা। পেশাগত জীবনে তিনি একজন সফল আইনজীবী। ২০০৯ সাল থেকে তিনি পুরোপুরি বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় হন। তখন থেকে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম সুপ্রিম কোর্ট ইউনিটের মানবাধিকার সম্পাদক। এরপর সংগঠনটির আন্তর্জাতিক সম্পাদক এবং বর্তমানে যুগ্ম সম্পাদক হিসেবে কাজ করছেন। ২০১৪ সালে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য হন। এরপর ২০২৪ সালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটির সদস্য হন তিনি। বর্তমানে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম সুপ্রিম কোর্ট ইউনিটের সদস্য হিসেবে আছেন।

কারাজীবন

ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানা বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে চরম রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হন। ২০১৫ সালে জঙ্গি সংগঠন ‘হামজা ব্রিগেড’কে অস্ত্র কেনার জন্য এক কোটি ৮ লাখ টাকা যোগানোর অভিযোগে র‌্যাব তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে। ওই বছর ১৮ আগস্ট রাতে ঢাকার ধানমণ্ডি থেকে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী হাসানুজ্জামান লিটন ও জজকোর্টের আইনজীবী মাহফুজ চৌধুরী বাপনসহ ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানাকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। পরবর্তীতে অন্য দুইজন জামিন পেলেও শাকিলার জামিন পাননি। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ১০ মার্চ আদালত তাকে এবং অন্য আসামিদের নির্দোষ ঘোষণা করে এই মামলা থেকে খালাস দেন।

পূর্বতারা/ইউডি

ভিডিও