বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬

চবি শাটলে নতুন আতঙ্ক ‘পাথরবৃষ্টি’, রক্তাক্ত শিক্ষার্থীরা

চবি প্রতিনিধি

প্রকাশ : ৩ মার্চ ২০২৬, ০৫:০৮

ক্যাম্পাসে আসা-যাওয়ার পথে চলন্ত শাটল ট্রেনে দুর্বৃত্তদের ছোঁড়া পাথরের আঘাতে প্রতিনিয়ত রক্তাক্ত হয়ে ফিরতে হচ্ছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের। নিরাপদ শিক্ষাঙ্গনের প্রত্যাশায় যারা প্রতিদিন ক্লাসে আসেন, তাদেরই কেউ কেউ দিনশেষে মাথা, হাত কিংবা মুখে আঘাত নিয়ে ফিরছেন। সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। তবে এ সমস্যার কার্যকর সমাধান দিতে পারেনি রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ কিংবা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

জানা গেছে, গত সোমবার (২ মার্চ) রাত সাড়ে ৮টার দিকে শহর থেকে ক্যাম্পাসে ফিরছিলেন চবি শিক্ষার্থী ও দৈনিক পূর্বতারার বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক আব্দুল্লাহ আল নাঈম। শাটল ট্রেনটি ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় পৌঁছালে বাইরে থেকে ছোঁড়া পাথরের আঘাতে রক্তাক্ত হন তিনি।

আহত নাঈম বলেন, ‘রাত সাড়ে ৮টার শাটলে ফেরার পথে দুর্বৃত্তরা পাথর ছুঁড়ে মারে। আঘাত লাগার পর ৫-৭ মিনিট স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিলাম। হাত আছে কি না বুঝতে পারিনি। হাত কেটে রক্ত বের হয়েছে, প্রচণ্ড ব্যথা ছিল। পরে চবি মেডিক্যালে চিকিৎসা নিয়েছি।’

তিনি জানান, চিকিৎসক তাকে বেড রেস্টে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। নাঈম বলেন, ‘আমার প্রশ্ন— বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা কোথায়?’

শুধু নাঈম নন, প্রায়ই এ ধরনের ঘটনার শিকার হচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। আরেক শিক্ষার্থী আহসান মাহফুজ জানান, ‘গত পরশুদিন শাটলে আমার পাশে বসা এক ভাইয়ের হাতের আঙুল ফেটে রক্ত বের হয়েছে। কনিষ্ঠ আঙুল ফুলে গিয়েছিল পাথরের আঘাতে।’

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) আইয়ুবুর রহমান তৌফিক বলেন, ‘ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। বিষয়টি নিয়ে দ্রুত প্রশাসনের সঙ্গে বসে সমাধানের চেষ্টা করব।’

চাকসুর যোগাযোগ ও আবাসন সম্পাদক ইসহাক ভুঁইয়া বলেন, ‘আগেও শাটলের জানালায় নেট বা শিক দিয়ে সুরক্ষা দেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছিল। এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। রেলওয়ে যদি শিক্ষার্থীদের জন্য নির্দিষ্ট বগি বরাদ্দ করত, তাহলে সেগুলোতে স্থায়ী সুরক্ষা ব্যবস্থা নেওয়া যেত।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. হোসেন শহিদ সরওয়ার্দী জানান, ঘটনার পরপরই সংশ্লিষ্ট রেলওয়ে ও প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘ক্যান্টনমেন্ট এলাকা সেনাবাহিনীর আওতাধীন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেছি, যাতে শক্ত পদক্ষেপ নেওয়া হয় এবং দায়ীদের চিহ্নিত করা যায়।’

এ বিষয়ে উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. কামাল উদ্দিন খান জানান, তিনি অন্য দায়িত্বে ব্যস্ত থাকায় এ বিষয়ে কথা বলতে পারেননি। আর উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়াহইয়া আখতারের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

বিশ্ববিদ্যায় শিক্ষার্থীরা বলছেন, দ্রুত স্থায়ী সমাধান না হলে শাটলযাত্রা আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠবে এবং বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা থেকেই যাবে।

ভিডিও