রমজানের শেষে আনন্দের ঈদ। আর সেই আনন্দের ছোঁয়া পৌঁছে গেছে চট্টগ্রামের খলিফাপট্টি ও ঝাউতলার বিহারিপল্লী পর্যন্ত। ঈদকে সামনে রেখে রঙিন পোশাক তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন এখানকার কারিগররা। তাদের হাতের জাদুতে তৈরি হচ্ছে শিশু-কিশোর থেকে নারীরা যে রঙিন ফ্রক, ঝলমলে লেহেঙ্গা ও থ্রিপিস। সকাল থেকে রাত, সেলাই, জরি, চুমকি আর লেস বসানো—সব মিলিয়ে এক রঙিন উৎসবের মতো জীবন নগরীর কাপড় তৈরির এলাকাগুলো।
নগরীর আন্দরকিল্লার পাশের নবাব সিরাজুদ্দৌলা সড়কের ঘাটফরহাদাবেগে অবস্থিত খলিফাপট্টি। প্রায় ৭০ বছরের পুরনো ঐতিহ্য বহন করছে এখানকার কারিগররা। দেশভাগের পর নোয়াখালীর কিছু দর্জি কলকাতা থেকে এসে এখানেই ঘাঁটি গেড়েছিলেন। এখন এই এলাকায় তিনশোর বেশি দোকান ও কারখানায় কাজ করছেন ছয় হাজারেরও বেশি কারিগর ও শ্রমিক। এখানে পুরনো পায়ে চালানো মেশিনের সঙ্গে এখন বিদ্যুৎ চালিত অটোমেটিক মেশিনও আছে, যা আধুনিক ফ্যাশন ট্রেন্ডের সঙ্গে তাল মিলিয়ে পোশাক তৈরি করতে সাহায্য করছে।
কারিগর রোকসানা বেগম জানান, তিনি সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত কাজ করেন। মাসিক বেতন ১০ হাজার টাকা। হৃদয় নামে একজন বলেন, আমি চার বছর ধরে খলিফাপট্টিতে কাজ করছি। প্রডাকশনভিত্তিক কাজ করলে সুবিধা। ইচ্ছে করলে বিশ্রাম নেওয়া যায়, আর কোনো মহাজনের শাসন নেই।
জানা গেছে, খলিফাপট্টিতে তৈরি পোশাক চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, ফেনী ও নোয়াখালীর পাইকারদের কাছে বিক্রি হয়। ঈদকে সামনে রেখে খন বাড়তি পরিশ্রম করছেন এখানকার শ্রমিক-কারিগররা।
অন্যদিকে, নগরীর ঝাউতলার বিহারিপল্লীর কারিগররা বিশেষভাবে প্রসিদ্ধ জারদৌসি ও কারচুপির হাতের কাজের জন্য। শাড়ি, লেহেঙ্গা, সেলোয়ার কামিজ, বোরকা, পাঞ্জাবি—সবই তৈরি হয় গ্রাহকের ডিজাইন অনুযায়ী। একটি চতুর্ভুজ কাঠের ফ্রেমে টানটান করে কাপড় স্থাপন করে সুঁই-সুতা, চুমকি, কুন্দন দিয়ে ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে ফুল, পাখি, লতাপাতা সহ নানা নকশা।
কারিগর মো. কামাল বলেন, শবে বরাতের পর থেকে অর্ডার বাড়ে। ঈদে চাহিদা বেশি, তাই ১৫ রমজানের পর নতুন অর্ডার নেওয়া সম্ভব হয় না। দামও নির্ভর করে ডিজাইনের জটিলতার ওপর—একটি লেহেঙ্গার জন্য ৪৫-৬০ হাজার টাকা, শাড়ি ১০ হাজার টাকা থেকে শুরু। তবে ক্রেতারা এখন বিদেশি মেশিনে তৈরি পোশাকের দিকে বেশি ঝুঁকছেন, তাই বিহারিপল্লীর অনেক কারখানা এখন মাত্র ১০-১৫টি।
বিহারি পল্লীতে আসা এক ক্রেতা ইসরাত জাহান ইমা বলেন, এ পল্লীতে ডিজাইন করা পোশাকগুলো অনেক সুন্দর। ঈদে সবাই চায় দৃষ্টিনন্দন পোশাক পড়তে। তবে এখানে হাতের কাজের পোশাকগুলো দাম বেশি, তাই সবার সাধ্যে কেনা হয়ে উঠে না।