চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেছেন, যে অপরাধ করবে, সে শুধু অপরাধী—তার অন্য কোনো পরিচয় নেই। সে কোন দল করে বা কোন রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত, তা দেখা হবে না। মাদক, ইয়াবা, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি কিংবা কোনো সিন্ডিকেট নতুন বাংলাদেশে চলতে দেওয়া হবে না।
সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে বোয়ালখালী উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জেলা প্রশাসক বলেন, দায়িত্ব পালনে কোনো ধরনের অবহেলা বরদাশত করা হবে না। জনগণ পরিবর্তন চায়। আমরা ২০ বছর আগে যে ধারাবাহিকতায় চলেছি, এখন আর সে পথে চলা যাবে না। সেখান থেকে বেরিয়ে এসে সততা, দক্ষতা ও দায়িত্ববোধ নিয়ে কাজ করতে হবে। চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী কার্যক্রম ও সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে প্রশাসনকে কঠোর অবস্থান নিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, এই বাংলাদেশে আইনের দৃষ্টিতে সবাই সমান। অপরাধী যেই হোক না কেন, তাকে আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে এই নীতিই বাস্তবায়ন করতে হবে।
জনগণের সঙ্গে সম্মানজনক আচরণ ও সেবামুখী মনোভাব নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, আমরা একে অপরের সহকর্মী। নির্বাচন পরবর্তী সময়ে সরকারের প্রতিটি দপ্তর সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্যেই পরিচালিত হবে এবং আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে। জনগণ প্রশাসনের কাছে ন্যায়বিচার ও কার্যকর সেবা প্রত্যাশা করে।
উন্নয়ন কার্যক্রমে গতি আনতে খাল খনন ও জলাবদ্ধতা নিরসনে গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, পরিকল্পিত উন্নয়ন ছাড়া টেকসই অগ্রগতি সম্ভব নয়। এ ক্ষেত্রে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সক্রিয় ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এর আগে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ট্রাইসাইকেল, বাইসাইকেল, সুবর্ণ নাগরিক কার্ড এবং সুদমুক্ত ক্ষুদ্রঋণ বিতরণ করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো মেহেদী হাসান ফারুকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য দেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও পৌর প্রশাসক কানিজ ফাতেমা, প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. রুমন তালুকদার, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহফুজুর রহমান, প্রেস ক্লাব সভাপতি সিরাজুল ইসলাম, কৃষি কর্মকর্তা মো. শাহানুর ইসলাম, মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সালমা ইসলাম, নির্বাচন কর্মকর্তা তনুশ্রী গোস্বামী ও সহকারী প্রকৌশলী মো. ফারুক।
সভায় উপস্থিত কর্মকর্তারা মাঠপর্যায়ের বিভিন্ন সমস্যা, চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন। তারা প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও কার্যকর সমন্বয় জোরদারের মাধ্যমে সেবার মান আরও উন্নত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।