সড়কের পাশে সারি সারি টেবিল। বড় বড় প্লেটে সাজানো হরেক পদের ইফতারের আইটেম। ছোলা, পেঁয়াজু, বেগুনি, আলুর চপ, পাকোড়ার পাশাপাশি আছে ঠান্ডা লাচ্ছি আর তরমুজের শরবত। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে চট্টগ্রাম নগরের সিআরবি এলাকায় গিয়ে এমন দৃশ্যই চোখে পড়ে। ইফতারের আগমুহূর্তে উন্মুক্ত স্থানে রোজাদারদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো।
শুধু সিআরবি এলাকাই নয়, চট্টগ্রাম শহরের বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে এবং অভিজাত রেস্টুরেন্টসহ ছোট-বড় অন্তত দুশো হোটেল-রেস্তোরাঁয় বসেছে ইফতারের হাট। রমজানের সন্ধ্যায় আজানের আগে ব্যস্ত সড়ক, আলোর সাজে সজ্জিত রেস্টুরেন্ট এবং পরিবার-বন্ধুদের মিলনমেলায় নগরের আবহ এক ভিন্ন রূপ নেয়। এখানে ইফতার কেবল খাবারের আয়োজন নয়, বরং সামাজিক উৎসব হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।

রমজানকে ঘিরে এবার নগরের প্রায় সব রেস্টুরেন্টেই রয়েছে বিশেষ আয়োজন। ঐতিহ্যবাহী পেঁয়াজু, বেগুনি, ছোলা, মুড়ি, আলুর চপ, পাকোড়া, জিলাপি ও শরবতের পাশাপাশি মেনুতে যুক্ত হয়েছে বিরিয়ানি, মেজবানি গোশত, মোগলাই, আরবি ও চাইনিজ খাবারের ইফতার। অনেক রেস্টুরেন্টে একসঙ্গে ত্রিশ পদেরও বেশি আইটেম পরিবেশন করা হচ্ছে।
ইফতার হাটে আসা রোজাদার মো. আবদুল কাদের বলেন, অফিসের কাজের ব্যস্ততায় প্রতিদিন বাসায় ইফতার প্রস্তুত করা সম্ভব হয় না। এখানে এক জায়গায় নানা ধরনের খাবার পাওয়া যায়, সময়ও বাঁচে।
চট্টগ্রাম কলেজের শিক্ষার্থী ফারহানা ইসলাম বলেন, রমজান মানেই পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে একসঙ্গে ইফতার করা। রেস্টুরেন্টগুলোর এই আয়োজন আমাদের জন্য মিলনমেলার সুযোগ তৈরি করে দেয়।

একটি রেস্টুরেন্টে কর্মরত হাসান মাহমুদ বলেন, এবার ক্রেতারা স্বাস্থ্য নিয়ে বেশি সচেতন। তাই কম তেলে ভাজা খাবার, তাজা ফল, সালাদ এবং ডায়াবেটিক-বান্ধব আইটেম মেনুতে যুক্ত করেছি। পরিচ্ছন্নতার বিষয়েও আমরা বাড়তি গুরুত্ব দিচ্ছি।
মোহাম্মদ সেলিম উল্লাহ নামে এক ক্রেতা বলেন, আগে ইফতার ছিল মূলত ঘরকেন্দ্রিক। এখন এটি সামাজিক বন্ধনের প্রতীক হয়ে উঠেছে। আজানের সময় সবাই এক টেবিলে বসে ইফতার করার অনুভূতিটা সত্যিই আলাদা।
রোজাদারদের মতে, আজানের ধ্বনি ও দোয়ার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া সেই মুহূর্তে ভিন্ন ভিন্ন স্বাদের খাবার থাকলেও অনুভূতি একটাই—একসঙ্গে হওয়ার আনন্দ। চট্টগ্রাম নগরে ইফতার হাট তাই এখন খাবারের গণ্ডি পেরিয়ে সৌহার্দ্য ও সামাজিক বন্ধনের এক অনন্য উপলক্ষ্যে পরিণত হয়েছে।