বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬

নির্বাচনী সরঞ্জাম কেন্দ্রে যাচ্ছে বুধবার

স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশ : ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১:৫১

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের জন্য চট্টগ্রামের ১৬টি আসনে প্রাথমিক প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কার্যালয়ে ইতোমধ্যে সব নির্বাচনি সরঞ্জাম পৌঁছে গেছে। বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সকালে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তারা বিভিন্ন কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসারদের নির্বাচনী কেন্দ্রের সরঞ্জাম বুঝিয়ে দেবেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চট্টগ্রাম জেলার সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তা মো.বশির আহমেদ। তিনি জানান, একটি গ্রহণযোগ্য ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে তাদের কোনো ঘাটতি নেই। নির্বাচন উপলক্ষে শান্তিপূর্ণ, বিশ্বাসযোগ্য ও উৎসবমুখর পরিবেশ নিশ্চিত করতে মোট ১৪২ জন নির্বাহী ও বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োজিত থাকবেন।

তিনি জানান, ব্যালট পেপার, স্বচ্ছ ব্যালট বক্স, চটের থলি, স্ট্যাপলার মেশিন ও পিন, অমোচনীয় কালির কলম, রাবারের সিলমোহর, মার্কিং সিল, স্ট্যাম্প প্যাড, গালা, চার্জার লাইট, মনিহারি সামগ্রীসহ অন্যান্য উপকরণ আগামীকাল সকাল ১০টা থেকে চট্টগ্রাম মহানগরীর ভোট কেন্দ্রগুলোতে বিতরণ করা হবে। উপজেলার ভোট কেন্দ্রগুলোর এসব সরঞ্জাম ইতোমধ্যে সহকারি রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা ইউএনওদের কাছে পৌঁছে দেয়া হয়েছে। চট্টগ্রামে মোট ভোট কেন্দ্র ১ হাজার ৯৬৫টি। এরমধ্যে ৬৫৩টি কেন্দ্রকে অধিক গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে প্রশাসন।

তিনি আরও জানান, নির্বাচন সংক্রান্ত সব কার্যক্রম এবং ফল ঘোষণা উপলক্ষে শনিবার থেকেই চট্টগ্রাম জেলা স্টেডিয়াম এলাকা নির্বাচন কমিশনের নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়েছে। নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনী, র‌্যাব, বিজিবি ও পুলিশের পৃথক বাহিনী মোতায়েন থাকবে বলেও জানান তিনি।

অতিরিক্ত আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসাইন জানিয়েছেন, কেন্দ্রে বুথ তৈরি ও সার্বিক প্রস্তুতি প্রিজাইডিং কর্মকর্তারা রাতের বেলায় সম্পন্ন করবেন। গত ২২ জানুয়ারি থেকে ৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ভোটের সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ সম্পন্ন হয়েছে।

জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা জাহিদ হোসেন মিঞা বলেন, সময়ের সীমাবদ্ধতা মাথায় রেখে ভোটারদের প্রত্যাশা অনুযায়ী নির্বাচন সম্পন্ন করতে সব ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের তত্ত্বাবধানে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা নিরলসভাবে কাজ করছেন।

এখনও পর্যন্ত নির্বাচনী পরিবেশ অত্যন্ত ভালো ও সন্তোষজনক উল্লেখ করে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ও রিটার্নিং কর্মকর্তা ড. মোহাম্মদ জিয়াউদ্দিন বলেন, বড় ধরনের কোনো নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ পাওয়া যায়নি। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি, অপরাধ দমন কার্যক্রম এবং অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার কার্যক্রমের কারণে নির্বাচন-পূর্ব ও পরবর্তী সময়ে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার আশঙ্কা নেই।

জেলা নির্বাচন কার্যালয় সূত্র জানায়, চট্টগ্রামে মোট ভোটার সংখ্যা ৬৬ লাখ ৮২ হাজার ৫১৭ জন। এরমধ্যে পুরুষ ভোটার ৩৪ লাখ ৮৩ হাজার ৮৭৭ জন, নারী ভোটার ৩১ লাখ ৯৮ হাজার ৫৭০ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ৭০ জন। প্রত্যেক ভোট কেন্দ্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ১৩ থেকে ১৮ জন সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন।

ভোটকেন্দ্রের দায়িত্বে অস্ত্রসহ পুলিশ, অস্ত্রসহ আনসার-ভিডিপি সদস্য, লাঠিসহ পুরুষ ও মহিলা আনসার-ভিডিপি’র সংখ্যা ১০ জন, গ্রাম পুলিশ থাকবে ১ থেকে ২ জন। এছাড়া পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি, কোস্ট গার্ড থাকবে। গুরুত্বপূর্ণ ভোট কেন্দ্রগুলোতে ১৬ জন করে আনসার ও পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবে এবং পুলিশ বডিওর্ন ক্যামেরা ব্যবহার করবেন। নির্বাচনে দায়িত্ব পালনের জন্য ১ হাজার ৯৬৫ জন প্রিসাইডিং কর্মকর্তা, ১২ হাজার ৫৯৫ জন সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা এবং ২৯ হাজার ১৬৫ জন পোলিং কর্মকর্তাকে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে প্রস্তুত করা হয়েছে।

ভিডিও