চট্টগ্রামে আবুল খায়ের গ্রুপের মালিকানাধীন স্টারশিপ দুধ ফ্যাক্টরিতে বয়লার বিস্ফোরণের পর কারখানার ভেতরে থাকা কর্মীদের খোঁজে বাইরে স্বজনদের আহাজারি দেখা গেছে। দুর্ঘটনার পর কারখানার ভেতরে কাউকে ঢুকতে না দেওয়ায় স্বজনদের মধ্যে চরম উৎকণ্ঠা ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টার দিকে নগরীর অক্সিজেন মোড় এলাকায় কেডিএস গার্মেন্টসের পাশ্ববর্তী স্টারশিপ দুধ ফ্যাক্টরিতে এ বয়লার বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। বিস্ফোরণের পরপরই কারখানায় আগুন ছড়িয়ে পড়লেও ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয়দের প্রচেষ্টায় তা দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
বায়েজিদ বোস্তামি ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ফায়ার ফাইটার মোহাম্মদ সোহের জানান, খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তারা পৌঁছানোর আগেই কারখানা কর্তৃপক্ষ আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। এ ঘটনায় অন্তত ১১ জন আহত হয়েছেন বলে জানান তিনি।
তবে দুর্ঘটনার পর থেকে কারখানার ভেতরে কর্মচারীদের স্বজন, স্থানীয় বাসিন্দা কিংবা গণমাধ্যমকর্মীদের প্রবেশে বাধা দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে কারখানার সামনে শত শত মানুষ জড়ো হন এবং এলাকায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কারখানার এক কর্মীর স্বজন বলেন, ‘বিস্ফোরণে কারখানার জানালার কাঁচ উড়ে গেছে। ভেতরে আমার মেয়ে আছে, কিন্তু কাউকে ঢুকতে দিচ্ছে না। মেয়ের একটা খবর পেলে অন্তত বাসায় ফিরে যেতে পারতাম। এটা কী ধরনের ব্যবহার, বুঝতে পারছি না।’
ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। পরিদর্শন শেষে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘পরিস্থিতি বর্তমানে স্বাভাবিক রয়েছে। কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি। তিনজন সামান্য আহত হয়েছেন, চিকিৎসা শেষে তারা এখন আশঙ্কামুক্ত।’
তবে আহতের সংখ্যা নিয়ে কর্তৃপক্ষের বক্তব্যের সঙ্গে ফায়ার সার্ভিসের তথ্যে গরমিল দেখা গেছে, যা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।
এদিকে নির্বাচন উপলক্ষে মঙ্গলবার দেশের শিল্পাঞ্চলে বিশেষ সাধারণ ছুটি ঘোষিত থাকলেও কেন স্টারশিপ ফ্যাক্টরি খোলা রাখা হয়েছিল— তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। বিষয়টি নিয়ে জানতে বায়েজিদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুর রহমানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।