প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চট্টগ্রাম সফর ঘিরে কয়েক দিনের জন্য বদলে গিয়েছিল নগরের চেহারা। গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে পরিচ্ছন্নতা অভিযান, ফুটপাত দখলমুক্ত করা, সড়ক বিভাজকে নতুন রং এবং বিভিন্ন স্থানে সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ করা হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রীর যাতায়াতের পথজুড়ে ছিল সাজসজ্জার ব্যস্ততা। তবে সফর শেষ হওয়ার পর সেই বদলে যাওয়া চিত্রের ‘স্থায়ীত্ব’ নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন!
জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ৯ আগস্ট চট্টগ্রাম সফর করেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর এটি ছিল তার প্রথম চট্টগ্রাম সফর। সফরকালে তিনি বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সঙ্গে দেখা করেন এবং পুনর্বাসন কর্মসূচিতে অংশ নেন। তার সফরকে কেন্দ্র করে নগর ও জেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়।
এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে নগরের অক্সিজেন মোড় থেকে হাটহাজারী বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত প্রায় ১২ কিলোমিটার সড়কের চিত্র। প্রধানমন্ত্রীর যাতায়াতের পথ হওয়ায় এই সড়কে পরিচ্ছন্নতা ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ জোরদার করা হয়। সড়কের পাশের জঙ্গল পরিষ্কার, ব্রিজ ও কালভার্ট পরিষ্কার এবং সড়ক বিভাজকে রং করার কাজ করা হয়। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবি ও ভিডিওতে দেখা যায়, বিভাজকের এক পাশে নতুন রং করা হলেও অন্য পাশের অংশ রয়ে গেছে পুরোনো ও মলিন। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনাও হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপসহকারী রঞ্জন কুমার বিশ্বাস বলেন, আমরা প্রধানমন্ত্রী আসার দুই থেকে তিন দিন আগেই কাজ শুরু করেছিলাম। তবে বৃষ্টি ও নানা ধরনের সমস্যার কারণে উভয় পাশে কাজ করতে পারিনি। শুধু এক পাশ করা হয়েছে।
ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর অপর পাশের কাজ শুরু হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমাদের শুরু থেকেই পরিকল্পনা ছিল ডিভাইডারের উভয় পাশে রং করা। তবে নানা সমস্যার কারণে আমরা করতে পারিনি। ভিডিওর সঙ্গে এর সংশ্লিষ্টতা নেই।
এদিকে প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে নগরীর বিভিন্ন এলাকার চিত্রও পাল্টে যায়। জানা গেছে, সফরকে কেন্দ্র করে চার দিন আগে থেকেই ফুটপাত দখলমুক্ত করতে সাঁড়াশি অভিযান চালায় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক)। ওই সময় কাজীর দেউড়িসহ বিভিন্ন এলাকার ফুটপাতে থাকা অর্ধশতাধিক অবৈধ দোকানপাট উচ্ছেদ করা হয়। নতুন রং ও তুলির আঁচড়ে সাজানো হয় পুরো এলাকা, যা নগরবাসীর মাঝে ব্যাপক স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছিল।
তবে সোমবার (১০ আগস্ট) দুপুরের পর থেকেই দৃশ্যপট পাল্টাতে শুরু করে। দুপুরের পর থেকে কাজীর দেউড়ি এলাকায় আবারও ফুটপাতের ওপর দোকানপাট খুলে বসতে শুরু করেন হকাররা। বিকেলে সরেজমিনে এলাকা ঘুরে দেখা যায়, আগের নিয়মেই ফুটপাত দখল করে ব্যবসা পরিচালনা করছেন হকাররা। এ বিষয়ে কথা বলতে গেলে ক্ষোভ ও আশঙ্কার কথা জানান হকাররা।
স্থানীয় পথচারীদের অভিযোগ, বিশেষ কোনো ব্যক্তি বা গুরুত্বপূর্ণ অতিথির আগমনকে কেন্দ্র করে ফুটপাত দখলমুক্ত করা হলেও সেটি স্থায়ী হয় না। অভিযান শেষ হওয়ার কিছুদিনের মধ্যেই আবার ফুটপাত দখল হয়ে যায়। ফলে নগরবাসীর স্বাভাবিক হাঁটার অধিকার ব্যাহত হচ্ছে।
একই সমস্যার কথা জানিয়েছেন হকাররাও। কয়েকজন হকারের ভাষ্য, জীবিকার তাগিদেই তারা ফুটপাতে বসেন। বারবার উচ্ছেদ করা হলেও তাদের জন্য স্থায়ী কোনো বিকল্প ব্যবস্থা করা হয়নি। ফলে কিছুদিন পর তারা আবার একই জায়গায় ফিরে আসতে বাধ্য হন। তাদের দাবি, উচ্ছেদের পাশাপাশি হকারদের জন্য নির্দিষ্ট জায়গায় পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হলে সমস্যাটির স্থায়ী সমাধান সম্ভব।