রাঙামাটি শহরের ২৯৪ মিটার দৈর্ঘ্যর আসামবস্তি-কাপ্তাই সেতু। নতুন ভাবে সেতুটি নির্মাণ করতে গেলে সরকারকে ব্যয় করতে হতো প্রায় ৮০ কোটি টাকা। নষ্ট হতো সময়, যোগাযোগে হতো ভোগান্তি। তবে তা না করে মাত্র ১ কোটি ৮০ লাখ টাকা খরচ করেই পুরাতন সেতুটিকে আবার টেকসই করে ফেলা হয়েছে। রাঙামাটি স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর রেট্রোফিটিংয়ের মাধ্যমে সেতুটির অবকাঠামো উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়ন করেছে।
বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) রাঙামাটি জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী আহমেদ শফি বলেন, প্রথমে সেতুটির ক্ষয়-ক্ষতি নির্ধারন করা হয়েছে। এরপর সেতুটির ভৌত অবকাঠামোর কাজ শুরু করা হয়। সেতুটি কাজ করতে আমাদের মাত্র এক কোটি ৮০ লাখ টাকায় খরচ করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সেতুটি ভেঙে নতুন করে তৈরি করতে হলে সরকারের ব্যয় হতো ৮০ কোটি টাকারও বেশি। এছাড়াও সেতু নির্মাণকালীন সময় ব্যয় ও যোগাযোগ ভোগান্তি সৃষ্টি হতো। বর্তমানে রেট্রোফিটিং করায় সেতুটি আগামী ৩০-৪০ বছর পর্যন্ত টেকসই হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০০৬ সালে রাঙামাটি-কাপ্তাই উপজেলার যোগাযোগ ব্যবস্থার দূরত্ব কমিয়ে আনতে তৎকালীন সরকার স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের অধীনে ২৯৪ মিটার দৈর্ঘ্যর বিশাল সেতু নির্মাণ করেছিলো। দীর্ঘ দু’দশক পর সেতুটির পিলারসহ অবকাঠামো দুর্বল হতে থাকে।
রাঙামাটি স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ ২০২৪ সালের শুরুতে রিট্রোফিটিং (সেতুর নিরাপত্তা কার্যকারিতা আধুনিকরণ)-এর কাজ শুরু করে। বর্তমানে সেতুর কাজ শেষের পথে। আর মাত্র তিনটি পিলারের রিট্রোফিটিং কাজ বাকি।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) রাঙামাটি সদর উপজেলা প্রকৌশলী প্রণব রায় চৌধুরী বলেন, পুরো বছর বেশিরভাগ সময় সেতুটির পিলারগুলো কাপ্তাই হ্রদের পানিতে তলিয়ে থাকে। গ্রীষ্ম মৌসুমে যেসময়টুকু পাওয়া গেছে সেই সময়ের মধ্যে রাত-দিন দ্রুত কাজ করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সেতুটির উঁচু পিলারের ‘স্টিচিং’ (পিলারে ফাটল মেরামত) করা আমাদের জন্য অন্যতম চ্যালেঞ্জ ছিলো। মূলত সেতুটির ভৌত অবকাঠামোর উন্নয়নে যে সময়টুকু ব্যয় হয়েছে তার মধ্যে অন্যতম হলো সেতুর পিলারের ‘স্টিচিং’ করা।
পূর্বতারা/ইউডি