বাকলিয়ায় গত ২১ মে দুপুরে চকলেটের লোভ দেখিয়ে সাড়ে তিন বছরের এক শিশুকে যৌন নির্যাতন করেন ডেকোরেশন কর্মী মনির। আসামির বিচার নিজেরা করবে- এমন জেদে পুলিশের কাছ থেকে আসামি ছিনিয়ে নেওয়া নিয়ে স্থানীয় জনতার সাথে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যাপক সংঘর্ষ বাধে। ঘটনার পরদিন বাকলিয়া থানায় মামলা হয়।
আলোচিত সেই মামলাটির ১৩ দিনের মধ্যে তদন্ত শেষ করে বৃহস্পতিবার আদালতে চার্জশিট জমা দিয়েছে পুলিশ। ছুটিতে থাকায় মামলাটি বর্তমানে আমলি আদালতে রয়েছে। কর্মদিবস শুরু হলে সেটি শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে হস্তান্তরিত হবে বলে জানা গেছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে বাকলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সোলাইমান বলেন, এ মামলার চার্জশিট আদালতের প্রসিকিউশন শাখায় জমা দেওয়া হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক চট্টগ্রাম আদালতের প্রসিকিউশন শাখার এক কর্মকর্তা জানান, ছুটির কারণে এ মামলার চার্জশিট আমলি আদালত-৬ এ রয়েছে। সেখানে থেকে পরবর্তীতে শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইবুনালে যাবে। ওই আদালতে মামলার বিচার কাজ শুরু হবে। আগামী ১৫ জুন নাগাদ মামলাটি হস্তান্তরের সম্ভাবনা রয়েছে।
এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বাকলিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) তানভীর আহমেদ বলেন, মামলার চার্জশিট আদালতে ডিএনএ প্রতিবেদনে আসামি মনিরের সম্পৃক্ততা নিশ্চিত হওয়া গেছে। তাকেই একমাত্র আসামি করা হয়েছে অভিযোগপত্রে।
আসামি মনির হোসেনের (৩০) বাড়ি কুমিল্লা জেলায়। চট্টগ্রামের বাকলিয়া থানার নুর হোসেন চেয়ারম্যান ঘাটা এলাকায় ভাই ভাই ডেকোরেশন নামে একটি দোকানের কর্মচারী তিনি।
গত ২১ মে দুপুরে বাকলিয়ায় ডেকোরেশনের গুদামে সাড়ে তিন বছরের এক শিশুকে নিয়ে যৌন নির্যাতন করেন মনির। মনিরকে আটক করে এলাকাবাসী। পরে ঘটনাস্থলে পুলিশ এসে মনিরকে হেফাজতে নিয়ে থানায় আনতে গেলে জনতা বাধা দেয়। এ নিয়ে পুলিশ-জনতার মধ্যে ইট-পাথর নিক্ষেপ, লাঠিচার্জ, গুলিবর্ষণ, পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় রণক্ষেত্রে পরিণত হয় বাকলিয়া। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে এনে ছদ্মবেশে আসামিকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। পরদিন ২২ মে মনিরের বিরুদ্ধে বাকলিয়া থানায় মামলা করেন শিশুটির বাবা।
পূর্বতারা/ইউডি