চট্টগ্রাম ওয়াসার সুয়ারেজ প্রকল্পে কাজ করার সময় মাটি চাপা পড়ে দুই শ্রমিক নিহত হওয়ার ঘটনায় চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। চট্টগ্রাম ওয়াসা সূত্র জানায়, কমিটির প্রধান করা হয়েছে প্রকল্পের উপ-প্রকল্প পরিচালক মো. আব্দুর রউফকে। গঠিত কমিটিকে আগামী রবিবার (২৬ এপ্রিল) প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
এর আগে বৃহস্পতিবার ভোরে নগরের আগ্রাবাদ এক্সেস সড়ক এলাকায় দুর্ঘটনাটি ঘটে। নিহতরা হলেন মো. রাকিব (৩০) ও মো. আইনুল ইসলাম তুষার (২২)। আহত হয়েছেন মোহাম্মদ এরশাদ ও সাগর, যারা বর্তমানে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
দুর্ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা সকাল সাড়ে ৮টার দিকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে ভাঙচুর চালায়। এ ঘটনায় পুলিশ ছয়জনকে আটক করেছে।
ওয়াসার কর্মকর্তারা জানান, প্রকল্প এলাকায় কাজ শুরুর আগে প্রকৌশলীদের দেওয়া নির্দেশনা না মেনে এবং তাদের অবহিত না করেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ শুরু করে। পাইপ বসানোর আগে প্রায় আড়াই মিটার গভীর খননকাজ চলাকালে হঠাৎ ধস নেমে শ্রমিকরা মাটিচাপা পড়েন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, খননকাজে ছয়জন শ্রমিক থাকলেও চারজন মাটির নিচে চাপা পড়েন। পরে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক দুজনকে মৃত ঘোষণা করেন।
প্রকল্প পরিচালক ও ওয়াসার তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এই ঘটনার জন্য ওয়াসা দায়ী নয়। আমাদের প্রকৌশলী ও কনসালট্যান্টকে না জানিয়ে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের দেশীয় এক কনসালট্যান্টের নির্দেশনায় কাজ চলছিল। ঘটনার পর ওই কনসালট্যান্ট পলাতক রয়েছে।’
হাসপাতালে ভাঙচুরের বিষয়ে হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তসলিম উদ্দীন জানান, দুর্ঘটনার পর শ্রমিকদের সঙ্গে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের লোকজনের বাকবিতণ্ডা থেকে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে ধাক্কাধাক্কিতে জরুরি বিভাগের সামনের কাচ ভেঙে যায়।
পাঁচলাইশ থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহেদুল ইসলাম বলেন, ‘আটক ছয়জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।’