চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজের সংঘর্ষকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ও উত্তেজনা বেড়েছে। একদিকে ছাত্রদল ‘গুপ্ত রাজনীতি’ বন্ধের হুঁশিয়ারি দিচ্ছে, অন্যদিকে সংঘর্ষের সময় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে ছাত্রশিবির।
বুধবার বিকেলে নগরের নিউমার্কেট মোড়ে ছাত্রদলের সমাবেশে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন বলেন, ‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কোনো ধরনের ‘গুপ্ত রাজনীতি’ চলতে দেওয়া হবে না। তিনি অভিযোগ করেন, চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজে ‘গুপ্ত’ শব্দ লেখাকে কেন্দ্র করে ছাত্রশিবির হামলা চালিয়েছে।’ এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি হলে কঠোর জবাব দেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
নাছির উদ্দীন বলেন, ‘মতের ভিন্নতা থাকলে পাল্টা গ্রাফিতি করা যেত। কিন্তু তা না করে সহিংসতা উসকে দেওয়া হয়েছে।’ হামলা করে উল্টো দায় চাপানোর প্রবণতা শিবিরের পুরোনো কৌশল বলেও দাবি করেন এ ছাত্রদল নেতা।
অন্যদিকে একই ঘটনায় পুলিশের ‘নীরব ভূমিকা’ নিয়ে অভিযোগ তুলেছে ছাত্রশিবির। সকালে চট্টগ্রাম নগরের লালদীঘিতে পুলিশ কমিশনার কার্যালয়ে স্মারকলিপি দেওয়ার পর ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম বলেন, ‘পুলিশের উপস্থিতিতেই ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালানো হলেও তারা কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি।’
তিনি অভিযোগ করেন, ‘ছাত্রদলের বহিরাগতরা চাপাতি, কিরিচ ও লাঠিসোঁটা নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থী ও শিবির কর্মীদের ওপর হামলা চালায়।’ এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
সংঘর্ষের সূত্রপাত নিয়েও দুই পক্ষের বক্তব্য ভিন্ন। ছাত্রদলের দাবি, গ্রাফিতিতে ‘গুপ্ত’ শব্দ লেখাকে কেন্দ্র করে শিবির পরিকল্পিত হামলা চালিয়েছে। বিপরীতে শিবিরের অভিযোগ, তারা শান্তিপূর্ণভাবে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করলে পূর্বপরিকল্পিতভাবে বহিরাগতদের এনে হামলা করা হয়।
মঙ্গলবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত দফায় দফায় চলা সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হন বলে দাবি করা হয়েছে। সংঘর্ষে ধারালো অস্ত্র ব্যবহারের ঘটনাও সামনে আসে। গুরুতর আহতদের মধ্যে একজনের পায়ের গোড়ালি প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছে শিবির।