শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

দল বদলে মাস্টার, মনজুর আলম চমৎকার !

স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশ : ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:০৪

চট্টগ্রাম সিটির সাবেক মেয়র এম মনজুর আলম। চেয়ারের লোভে, ক্ষমতার প্রয়োজনে কখনো তিনি আওয়ামী লীগ। কখনো তিনি বিএনপি-তে যোগ দিয়েছেন অবলীলায়। তাঁর কাছে দল বা আদর্শ মুখ্য নয়। দলীয় টোকেনে হোক বা স্বতন্ত্র ভাবে নির্বাচন করে হোক, চেয়ারই যেন তাঁর একমাত্র ধ্যান-জ্ঞান। চেয়ার লোভী সেই মনজুর আলম এবার ফের আলোচনায় এলেন চেয়ারের হিসাব নিকাশেই। আসন্ন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে তিনি জাতীয় নাগরিক পার্টির টোকেনে অংশ নিতে পারেন- এটাই এখন টক অব দ্য টাউন।

পহেলা বৈশাখের দিন এনসিপির মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আবদুল্লাহ দাওয়াতে এসেছেন এম মনজুর আলমের বাসায়। এ ঘটনার পর থেকেই তাঁর সাথে এনসিপি সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি সামনে চলে আসে। সিটি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার দিনক্ষণ যখন সময়ের অপেক্ষা মাত্র। এমন সময়েই মনজুর আলমের বাসায় সাংসদ হাসনাতের আগমন রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণের জন্ম দিয়েছে।

তবে মনজুর আলমের এনসিপি সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি এবারই প্রথম নয়। গত ২ মার্চ পবিত্র রমজান মাসে চট্টগ্রামের পাঁচলাইশস্থ একটি কনভেনশন সেন্টারে ইফতার মাহফিলের আয়োজন করেছিল জাতীয় নাগরিক পার্টি। ওই ইফতার মাহফিলে মনজুর আলম বিশাল অংকের অনুদান দিয়েছিলেন। মাহফিলে বিতরণ করা পানির বোতলে ‘এম মনজুর আলমের ছবি ও নাম’ সম্বলিত স্টিকার লাগানো থাকার বিষয়টি সেসময় বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছিল।

এ বিষয়ে এম মনজুর আলম বলেন, হাসনাত আবদুল্লাহ আমার বাসায় মেহমান হিসেবে এসেছেন। আমি তাকে আপ্যায়ন করিয়েছি। গুণীজনকে সম্মান করি আমি। এটাকে অনেকে রাজনীতির রূপ দেয়। আসলে রাজনীতি না করেও সমাজসেবা করা যায়। মেয়র নির্বাচন নিয়ে আমার কোনো ভাবনা নেই। রাজনীতিতে ফিরতে চাইলে অনেক আগেই ফিরতাম। পদ-পদবি নিতাম।

দল বদল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মহিউদ্দিন চৌধুরীর সঙ্গে জেদ করে একবারই দল বদল করেছি আমি। এরপর রাজনীতি থেকে অবসর নিয়েছি। এর পরে সংসদ নির্বাচন করলেও সেটা স্বতন্ত্র হিসেবে। রাজনীতিবিদের চেয়েও সমাজসেবক হিসেবে আমার পরিচিতি বেশি। মোস্তফা হাকিম ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে আমি সারাবছর নানা সেবা কার্যক্রম করে থাকি।

এম মনজুর আলমের রাজনৈতিক ক্যারিয়ার

মনজুর আলম ছাত্রজীবনে সম্পৃক্ত ছিলেন ছাত্রলীগের সঙ্গে। আওয়ামী লীগের সমর্থন নিয়ে ১৯৯৪ সালে প্রথম ওয়ার্ড কাউন্সিলর নির্বাচিত হন। তখন থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগের সঙ্গেই সম্পৃক্ত ছিলেন তিনি। ওই সময় সাবেক মেয়র তখনকার নগর আওয়ামীলীগের সভাপতি এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীর সঙ্গে তাঁর দহরম মহরম সম্পর্কের কথা সবারই জানা। সেই খাতিরে তিনি চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনে ভারপ্রাপ্ত মেয়রের দায়িত্বও পালন করেছেন। তবে খাতির ভেঙ্গে যায় ওয়ান-ইলেভেনের পর। ওয়ান ইলেভেনে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে তিনি ভারপ্রাপ্ত মেয়রের দায়িত্ব পান। মহিউদ্দিন চৌধুরীর সঙ্গে তার দূরত্ব তৈরি হয়। ২০১০ সালের মেয়র নির্বাচনে তিনি বিএনপির সমর্থন নিয়ে মহিউদ্দিন চৌধুরীকে হারিয়ে নির্বাচিত হন। দীর্ঘ পাঁচ বছর তিনি মেয়রের দায়িত্ব পালন করেন। ওই মৌসুমে তিনি বিএনপির উপদেষ্টার পদও অর্জন করেছেন। ২০১৫ সালের সিটি নির্বাচনেও তিনি বিএনপির মেয়র প্রার্থী হিসেবে অংশ নেন। তবে আওয়ামীলীগের মেয়র প্রার্থী আ জ ম নাছির উদ্দীনের কাছে হেরে যান। ওই বছরই তিনি রাজনীতি থেকে অবসরের ঘোষণা দেন।

তবে এই ঘোষণা আর বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। ২০১৮ সালের নির্বাচনে তিনি আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চান। তবে পাননি। ২০২৪ সালের জাতীয় নির্বাচনেও চট্টগ্রাম-১০ আসনে আওয়ামী লীগের টোকেন পেতে নানা তদবির করেছেন। মনোনয়ন না পেয়ে পরে স্বতন্ত্র হিসেবে নির্বাচন করেছিলেন মনজুর আলম। তবে হেরে যান। বিএনপি-আওয়ামী লীগের পর এবার তিনি সখ্যতা গড়ে তুলেছেন এনসিপি’র সাথে।

পূর্বতারা/ ইউডি

ভিডিও