চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক) এলাকায় আগামী ২০ এপ্রিল থেকে ২০ মে পর্যন্ত মাসব্যাপী হাম-রুবেলার টিকাদান ক্যাম্পেইন পরিচালনা করা হবে। প্রতিদিন (শুক্রবার ও সরকারি ছুটির দিন ব্যতীত) সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত টিকাদান কার্যক্রম চলবে।
চসিক সূত্রে জানা যায়, এই ক্যাম্পেইনের আওতায় সিটি কর্পোরেশন এলাকায় ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী সকল শিশুকে এক ডোজ হাম-রুবেলা টিকা প্রদান করা হবে। ক্যাম্পেইনে ৭টি জোনের ৪১টি ওয়ার্ডে মোট ৩ লক্ষ ৩০০ শিশুকে টিকা প্রদানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ জন্য ৪৮টি স্থায়ী টিম, ২০৫টি অস্থায়ী টিম, ৪১টি মপ-আপ টিম এবং ১৪টি সন্ধ্যাকালীন টিকাদান সেশন চালু থাকবে।
চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন এ তথ্য জানান, টিকা গ্রহণের জন্য অভিভাবকদের ১৭ ডিজিটের জন্ম নিবন্ধন নম্বর ব্যবহার করে অনলাইনে নিবন্ধন করতে উৎসাহিত করা হচ্ছে। তবে নিবন্ধন না থাকলেও কোনো শিশু টিকা থেকে বঞ্চিত হবে না। বিশেষ করে বস্তি ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসরত বাদ পড়া শিশুদের খুঁজে বের করে টিকা প্রদান করা হবে।
মেয়র বলেন, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল করে দেয় এবং পরবর্তীতে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, অপুষ্টি এমনকি মস্তিষ্কের প্রদাহের মতো জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে। তাই প্রতিটি শিশুকে টিকার আওতায় আনা অত্যন্ত জরুরি।
তিনি আরও জানান, ক্যাম্পেইন সফল করতে ইতোমধ্যে কেন্দ্রীয় ও মাঠ পর্যায়ে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণ, স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুতকরণ, ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ ও শিক্ষকদের সাথে সমন্বয় সভা, মাইকিং ও গণসচেতনতা কার্যক্রম।
তিনি বলেন, এই কর্মসূচি সফল করতে সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন। সাংবাদিক, শিক্ষক, ইমাম, পেশাজীবীসহ সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। সম্মিলিত প্রচেষ্টায়ই আমরা একটি সুস্থ, নিরাপদ চট্টগ্রাম গড়ে তুলতে পারবো।
উল্লেখ্য, এই কর্মসূচি বাস্তবায়নে স্বাস্থ্য বিভাগ, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের পাশাপাশি স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই), স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, ইউনিসেফ, গ্যাভি এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাসহ বিভিন্ন সংস্থা সহযোগিতা করছে।