শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

৬৪ জেলা ঘুরলেন চট্টগ্রামের তরুণ

থ্যালাসেমিয়ার বিরুদ্ধে জাহিদের একার লড়াই

ফটিকছড়ি প্রতিনিধি

প্রকাশ : ১১ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:২৩

রাত তখন গভীর। অচেনা এক জেলার ছোট্ট বাজারে ক্লান্ত শরীর নিয়ে বসে আছেন তরুণ। পকেটে নেই টাকা, সামনে অনিশ্চিত পথ- তবুও চোখে তৃপ্তির ঝিলিক। কারণ, সারাদিনে অন্তত শতাধিক মানুষকে তিনি জানাতে পেরেছেন একটি প্রাণঘাতী রোগ ‘থ্যালাসেমিয়া’ সম্পর্কে ।

এই তরুণের নাম শেখ জাহিদ হাসান। চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার হেঁয়াকো গ্রামের বাসিন্দা। কোনো স্পন্সর বা আর্থিক সহায়তা ছাড়াই মাত্র ৬১ দিনে দেশের ৬৪টি জেলা ঘুরে মানুষের মধ্যে থ্যালাসেমিয়া সম্পর্কে সচেতনতা ছড়িয়ে দিয়েছেন তিনি।

ফটিকছড়ির হেয়াকো বনানী ডিগ্রি কলেজের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র জাহিদ ৯ ভাই-বোনের মধ্যে সবার ছোট। নিজ এলাকায় থ্যালাসেমিয়ার উচ্চ হার তাকে গভীরভাবে নাড়া দেয়। তিনি উপলব্ধি করেন, সচেতনতার অভাবই এই রোগ বিস্তারের অন্যতম কারণ। সেই ভাবনা থেকেই গত বছরের ১ ডিসেম্বর খাগড়াছড়ি থেকে যাত্রা শুরু করেন।

অদম্য ইচ্ছাশক্তিকে সঙ্গী করে কখনো বাসে, কখনো ট্রাকের ছাদে, আবার কখনো হেঁটে পাড়ি দিয়েছেন এক জেলা থেকে আরেক জেলায়। অনেক সময় না খেয়ে থেকেছেন, রাত কাটিয়েছেন অপরিচিত মানুষের বারান্দায় কিংবা স্বল্পমূল্যের হোটেলে।

জাহিদ বলেন, ‘আমি যখন মানুষকে আমার উদ্দেশ্য বলতাম, তারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে সাহায্য করতেন। কেউ খাবার দিয়েছেন, কেউ পথ দেখিয়েছেন- এ যেন মানবিকতার এক অনন্য উদাহরণ।’

তার এই ভ্রমণ শুধু ঘোরাঘুরিতে সীমাবদ্ধ ছিল না। দেশের বিভিন্ন স্কুল-কলেজ, বাসস্ট্যান্ড ও জনসমাগমস্থলে লিফলেট বিতরণের মাধ্যমে তিনি মানুষকে বোঝানোর চেষ্টা করেছেন- থ্যালাসেমিয়া একটি বংশগত রোগ এবং বিয়ের আগে রক্ত পরীক্ষা করলে এটি প্রতিরোধ সম্ভব।

তার এই উদ্যোগে সহযোগিতা করেছে ‘ফটিকছড়ি ব্লাড ডোনার্স ক্লাব’। লিফলেট ছাপানোর খরচসহ বিভিন্নভাবে পাশে দাঁড়িয়েছেন শুভাকাঙ্ক্ষীরা। চলতি বছরের ১০ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় এসে শেষ হয় তার ৬৪ জেলা ভ্রমণের এই ব্যতিক্রমী মিশন। ১০ দিনের বিরতি বাদে মাত্র ৬১ দিনেই তিনি পূর্ণ করেন এই যাত্রা।

শেখ জাহিদ হাসান বলেন, ‘হয়তো একদিন আমার আর্থিক স্বচ্ছলতা আসবে, কিন্তু তখন মানুষের জন্য নির্ভেজালভাবে সময় দেওয়ার এই সুযোগটা আর থাকবে না। তাই এই পথচলায় যদি দেশের ৬৪ জেলার অন্তত ৬৪ জন মানুষও সচেতন হয়ে ওঠে, তবেই আমি আমার পরিশ্রমকে সার্থক মনে করব।’

ভিডিও