বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬

তেল পেতে দিন পার, গাড়ি কখন চলবে আর ?

স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশ : ৭ এপ্রিল ২০২৬, ১২:০৯

“ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে পাম্পগুলোতে তেল পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ২০ লিটার। অথচ আমার ঢাকা যাইতে তেল লাগবো ৮০ থেকে ১০০ লিটার। বাধ্য হয়ে আমাকে অন্য পাম্পে লাইন ধরতে হইতাছে। এইভাবে এক ট্রিপের তেল নিতে আমার পাম্পে পাম্পে ঘুরা লাগতাছে। পুরো দিন পার হইয়া যাইতাছে। ট্রিপ কমে যাইতাছে। ঠিকমতো ঘুমাইতাম পারছি না। আয় ইনকামে টান পড়ছে।”

জ্বালানি তেল সংগ্রহ করতে গিয়ে অসহনীয় ভোগান্তির কথা এভাবেই ব্যক্ত করলেন পঞ্চাশোর্ধ ট্রাকচালক হেদায়েত উল্লাহ কামাল। এই ভোগান্তি শুধু কামালের নয়, এমন পরিস্থিতিতে পড়েছেন পরিবহন খাত সংশ্লিষ্ট ট্রাক ও লরি চালকরা।

জ্বালানি তেল সরবরাহের অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে পড়ে পরিবহন খাতের নাজুক অবস্থা। জ্বালানি তেলের জন্য নিয়মিত হাহাকার সৃষ্টি হয়েছে ফিলিং স্টেশনগুলোতে।

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম বন্দর প্রাইভ মুভার মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ হাসান বলেন,, তেল সংকটে আমাদের ট্রাক চালকদের সীমাহীন দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে । গত দুই সপ্তাহে বন্দর থেকে দেশের বিভিন্ন রুটে পণ্যবাহী গাড়ির চলাচল কমেছে প্রায় ৩০ শতাংশ। তেল নিতে গিয়ে ড্রাইভারদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় নষ্ট হচ্ছে। ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে একটি বড় কাভার্ড ভ্যানের যাওয়া-আসায় খরচ হয় ১৪০ থেকে ১৬০ লিটার ডিজেল। কিন্তু আমাদের প্রয়োজনীয় তেলও দিচ্ছে না পাম্পগুলো। এমন অবস্থা চলতে থাকলে পরিবহন ব্যবস্থায় ধস নামতে পারে।

নগরীর নয়াবাজার এলাকার একটি পাম্পের ম্যানেজার মো. শহীদুল আলম জানান, “যতক্ষণ তেল মজুত থাকে, ততক্ষণই আমাদের সরবরাহ চলছে। নিয়মিত ট্যাগ অফিসাররা আমাদের পাম্প ভিজিট করছেন।

জানা গেছে, দেশের প্রায় ৯২ শতাংশ আমদানি এবং ৮৫ শতাংশ রপ্তানি সম্পন্ন হয় চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে। স্বাভাবিক সময়ে বন্দর ও আশপাশের ১৯টি বেসরকারি ডিপো থেকে প্রতিদিন ৮ থেকে ১০ হাজার পণ্যবাহী যানবাহন দেশের বিভিন্ন রুটে বন্দর ছেড়ে যায়।

ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে প্রায় ২৫০ কিলোমিটার পথে একটি বড় কাভার্ড ভ্যান বা লরির যাওয়া-আসায় খরচ হয় ১৪০ থেকে ১৬০ লিটার ডিজেল। সে হিসেবে শুধু বন্দরকেন্দ্রিক পণ্য পরিবহনেই প্রতিদিন প্রয়োজন হয় প্রায় ১২ থেকে ১৪ লাখ লিটার ডিজেল।

পূর্বতারা/ইউডি

ভিডিও