বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬

কারাগারের শেকলে বাঁধা ঈদ

স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশ : ২০ মার্চ ২০২৬, ১২:৪৮

পবিত্র ঈদুল ফিতরের আনন্দ সবার ঘরে ঘরে। কর্মমুখরতা ছেড়ে সবাই এখন ব্যস্ত পরিবার পরিজন নিয়ে। স্বজনদের সাথে আড্ডা,হাসি-আনন্দ উদযাপনে কাটছে সময়গুলো। তবে এমন আনন্দের সময়েও কারো মনে যেন আনন্দ নেই। কেউ যেন কাঁদছে কারাগারের অন্ধকার প্রকোষ্টে নিরবে। উঁচু দেয়াল ঘেরা কারাগার, সে কান্না শোনা যায় না বাইরে। কারাবন্দিদের ঈদ আনন্দ আয়োজন সবই আছে , নেই শুধু মুক্ত জীবন ; আপন স্বজনের সাথে ঈদের কোলাকুলি আর কদমবুচি । লোহার শেকলে আজ বাঁধা রমজানের রোজার শেষে আসা ঈদের বাঁকা চাঁদখানি।

ঈদ উপলক্ষে এবার চট্টগ্রাম কারা কর্তৃপক্ষ বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে। রকমারি খানদানি খাবারদাবারের পাশাপাশি কারা অভ্যন্তরে করা হয়েছে সাংস্কৃতিক নানা আয়োজন।

কারা সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে বর্তমানে বন্দী রয়েছেন সাধারণ বন্দী রয়েছেন ৫ হাজার ৮০০ জন — যার মধ্যে নারী ২১২ জন। ঈদ উপলক্ষে এবার কাউকে মুক্তি দেওয়া হয়নি।

চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মো. ইকবাল হোসেন জানান, ঈদের দিন প্রতিবারের মতো বন্দীদের জন্য বিশেষ খাবারের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। সকালে পায়েস- মুড়ি, দুপুরে পোলাও, গরুর মাংস, মুরগির মাংস, সালাদ ও মিষ্টি এবং রাতে সাদা ভাত, মাছ ভাজা ও আলুর দম পরিবেশন করা হবে।

কারা কর্তৃপক্ষ বন্দীদের কোনো ঈদ উপহার না দিলেও বন্দীদের আত্মীয়-স্বজনরা নতুন জামা-কাপড় কারাগারে পৌঁছে দিতে পারবেন। ইতোমধ্যে কারাগারে গিয়ে অনেক বন্দির স্বজনেরা তাদের প্রিয় স্বজনদেরকে নতুন জামা কাপড় পৌঁছে দিয়েছেন বলে জানা গেছে। ঈদের তিনটি জামাত অনুষ্ঠিত হবে। প্রথমটি সকাল ৮টায়।

ঈদের পরদিন প্রত্যেক বন্দী পরিবারের রান্না করা খাবার খাওয়ার সুযোগ পাবেন। ঈদের দিন থেকে পরবর্তী তিন দিন তারা স্বজনদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পারবেন। প্রত্যেক বন্দী তিন দিন কারাগারের নির্দিষ্ট ফোন থেকে পাঁচ মিনিট করে বিনা খরচে স্বজনদের সঙ্গে কথা বলার সুযোগও পাবেন।

কারা সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে এবার ঈদে কোন ভিআইপি বন্দী নেই। ডিভিশনপ্রাপ্ত বন্দী আছেন মাত্র দুইজন। তাদের মধ্যে একজন সনাতন জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাস এবং অপরজন ব্যবসায়ী গ্রুপ কেডিএস’র চেয়ারম্যান খলিলুর রহমানের ছেলে ইয়াছিন রহমান টিটু। 

ভিডিও