বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬

খাদ্য সহায়তা নিয়ে ছিন্নমূল মানুষের পাশে চট্টগ্রামের ডিসি

স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশ : ১৩ মার্চ ২০২৬, ০৭:০৮

জুমার নামাজ শেষে চট্টগ্রাম নগরের জমিয়তুল ফালাহ জাতীয় মসজিদের প্রাঙ্গণে ছিল মানুষের ভিড়। কেউ বাসার পথে ফিরছিলেন, কেউ আবার মসজিদের আঙিনায় দাঁড়িয়ে কথা বলছিলেন। ঠিক সেই সময় শুরু হয় এক ব্যতিক্রমী আয়োজন। অসহায়, দরিদ্র ও ভাসমান মানুষের হাতে খাদ্য সহায়তা তুলে দেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।

পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে শুক্রবার (১৩ মার্চ) চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জমিয়তুল ফালাহ জাতীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে এই খাদ্য সহায়তা বিতরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রায় ২৫০ জন অসহায়, ভাসমান মানুষ ও ভিক্ষুকের হাতে খাদ্য সহায়তার প্যাকেট তুলে দেওয়া হয়। প্রতিটি প্যাকেটে ছিল দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী।

মসজিদের খাদেম আবুল কালাম আজাদ প্রায় তিন দশক ধরে এখানে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি বলেন, এত দীর্ঘ সময়ে এমন দৃশ্য খুব কমই দেখেছেন। তার ভাষায়, জেলা প্রশাসক নিজে উপস্থিত থেকে প্রতিটি ভিক্ষুকের হাতে খাদ্যসামগ্রী তুলে দিয়েছেন—এটি সত্যিই বিরল।

মসজিদ প্রাঙ্গণে কাজ করা শফিকুল ইসলাম, যিনি চট্টগ্রাম সিটি কলেজে মাস্টার্সে পড়ছেন, বলেন তিনি আগে কখনো এমন দৃশ্য দেখেননি। পড়াশোনার পাশাপাশি দৈনিক হাজিরা ভিত্তিতে কাজ করা এই তরুণ জানান, জেলা প্রশাসক নিজ হাতে শতাধিক ভাসমান মানুষের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেছেন।

মসজিদের পরিচ্ছন্নতাকর্মী ওসমান গনিও এই উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, জেলা প্রশাসক হাসিমুখে মানুষের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং তাদের খোঁজখবর নিয়েছেন। তিনিও একটি খাদ্য প্যাকেট পেয়েছেন বলে জানান।

এ সময় জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, সমাজে একা ভালো থাকা সম্ভব নয়; সবাইকে নিয়ে ভালো থাকতে হবে। তিনি সমাজের সচ্ছল মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, অসহায় ও দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে, কারণ তারাও সমাজেরই অংশ। উৎসবের আনন্দ সবার সঙ্গে ভাগ করে নেওয়াই প্রকৃত মানবিকতা।

তিনি আরও বলেন, কোনো অসহায় মানুষ যদি উৎসবের দিনে খাবার না পায়, সেটি অত্যন্ত কষ্টের বিষয়। তাই জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসক জানান, সরকার সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য স্থায়ী সহায়তার উদ্যোগও নিচ্ছে। ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির মাধ্যমে বিশেষ করে নারীদের আর্থিক সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, নতুন বাংলাদেশে এমন একটি সমাজ গড়ে তোলা হবে যেখানে কেউ অসহায় হয়ে পড়ে থাকবে না।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, খাদ্য সহায়তার প্রতিটি প্যাকেটে ছিল ১০ কেজি চাল, ১ কেজি দেশি মসুর ডাল, ১ কেজি আয়োডিনযুক্ত লবণ, ১ কেজি চিনি এবং ১ লিটার ভোজ্য তেলসহ বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) শরীফ উদ্দিন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এলএ) মো. কামরুজ্জামান, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ মাহবুবুল হক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) পাঠান মো. সাইদুজ্জামান এবং জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা ছাইফুল্লাহ মজুমদারসহ জেলা প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তারা।

ভিডিও