বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬

কারাগারে ইন্টারকম সুবিধায় স্বস্তি বন্দী-স্বজনদের

স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশ : ৫ মার্চ ২০২৬, ০৫:৪৫

দীর্ঘক্ষণ লোহার জালের দুই পাশে দাঁড়িয়ে চিৎকার করে কথা বলার পুরোনো দৃশ্য বদলে দিয়ে প্রথমবারের মতো চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে চালু হয়েছে ইন্টারকম টেলিফোন সুবিধা। প্রাথমিকভাবে ৩২টি ইন্টারকম সেটে একসঙ্গে ১৬ জন বন্দী কথা বলতে পারবেন। এর মধ্যে পুরুষ বন্দীদের জন্য ১২টি এবং নারী বন্দীদের জন্য ৪টি বুথ রাখা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) দুপুরে এই সেবার উদ্বোধন করেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। বেসরকারি সংস্থা আলহাজ শামসুল হক ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে বাস্তবায়ন করা হয় এই পাইলট প্রকল্পটি।

জানা গেছে, ব্রিটিশ আমল থেকে চলে আসা লোহার জালের দুই পাশে দাঁড়িয়ে চিৎকার করে কথা বলতে হতো বন্দী কিংবা স্বজনদের। একসাথে অনেকের শব্দে যেমন কথা বুঝা যেতো না তেমনি হতো না প্রাণ খুলে কথা বলা। তবে এবার ইন্টারকম টেলিফোন সুবিধা চালু হওয়ায় ক্ষণিকের জন্য হলেও স্বজনের সাথে মন খুলে কথা বলতে পারবেন স্বজনরা। দিতে পারবেন আশ্বাস বা আশার খবর।

সরেজমিনে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের সাক্ষাৎকক্ষে দেখা যায়, বন্দির স্বজনেরা ইন্টারকমে কথা বলছেন। তাদের কারারক্ষীরা ও শামসুল হক ফাউন্ডেশনের কর্মীরা কীভাবে ইন্টারকম চালাতে হয় তা শিখিয়ে দিচ্ছেন। বন্দী এবং স্বজনদের মাঝে দেখা গেছে বাড়তি উদ্দীপনা, চোখে মুখে ছিলো স্বস্তি।

এ সময় আনোয়ারা থেকে আসা রহিমা বেগম জানান, আগে চিৎকার করে কথা বলতে হতো। তা-ও কিছু শোনা যেত না। এখন ইন্টারকম থাকায় চিৎকার-চেচাঁমেচি ছাড়াই কথা বলতে পারছি। একই কথা বলেন, সীতাকুণ্ড থেকে আসা আনোয়ার হোসেন। তিনি বলেন, অনেকক্ষণ অপেক্ষা করতে হয় বন্দি কারাগার থেকে আসার জন্য। কিন্তু আসার পর কিছুই বুঝতে পারি না। এই ইন্টারকম দেওয়ার ফলে আমরা ফোনের মতো কথা বলতে পারছি।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, কারাগারে প্রতিদিন শত শত মানুষ তাদের স্বজনদের সঙ্গে দেখা করতে আসেন। কিন্তু কারাগারের দেখার কক্ষে অত্যন্ত শব্দ হয়। অনেক মানুষ একসঙ্গে ভিড় করায় কেউ কারো কথা বোঝে না। অনেক দূর থেকে সন্তান তার বাবার সঙ্গে দেখা করে দুটি কথা বলার ইচ্ছে নিয়ে আসে। কিন্তু পরে সেটি বলা হয় না পরিবেশের কারণে। এতে তারা বেদনা ও বিরক্তি নিয়ে ফিরে ফিরে যায় কারাগার থেকে। ইন্টারকম চালু হওয়ায় বন্দিরা তাদের মা, বাবা, ভাই, বোন, সন্তানের সঙ্গে ২০-৩০ মিনিট করে নির্বিগ্নে কথা বলতে পারবেন।

বেসরকারি কারা পরিদর্শক ও আলহাজ শামসুল হক ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মুহাম্মদ নাছির উদ্দিন বলেন, নতুন ইন্টারকম ব্যবস্থা চালুর ফলে কারাভোগী ও তাদের স্বজনরা এখন সুবিধাজনকভাবে কথা বলতে পারবেন। এছাড়া সরকারি অনুমোদন ও সহায়তা পেলে ভবিষ্যতে কারাগারের সাক্ষাৎ ব্যবস্থা অনলাইন অ্যাপয়েন্টমেন্ট সিস্টেমের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। একইসঙ্গে বন্দীদের খাবারের মান উন্নয়নে কাজ করার কথাও উল্লেখ করেন।

ভিডিও