উজ্জ্বল কমলা রঙ, আকারে বড় আর কষ কম—এই তিন বৈশিষ্ট্যের কারণে কক্সবাজারের কাঁচা সুপারি এখন স্থানীয়ভাবে পরিচিত ‘আপেল সুপারি’ নামে। আকার ও দামে আপেলের সঙ্গে মিল থাকায় বিক্রেতারাই এমন নাম দিয়েছেন। প্রতিটি বড় আকারের কাঁচা সুপারি বিক্রি হচ্ছে ১০ থেকে ১৬ টাকায়। ভালো স্বাদ ও আকর্ষণীয় রঙের কারণে ক্রেতাদের চাহিদাও বাড়ছে।
জেলার উখিয়া, টেকনাফ, চকরিয়া, মহেশখালীসহ বিভিন্ন উপজেলায় এবার সুপারির বাম্পার ফলন হয়েছে। কৃষকদের ভাষ্য, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় গত তিন মৌসুমের তুলনায় এবার ফলন বেশি। বাজারে চাহিদা বাড়ায় দামও ভালো পাচ্ছেন তাঁরা।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, কক্সবাজার জেলার ৭১টি ইউনিয়নে ৮ হাজার ৬৭০ একর জমিতে ছোট–বড় ৩১ হাজার ৫৯০টি বাগানে সুপারি চাষ হয়েছে। চলতি মৌসুমে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ লাখ ৯৬ হাজার মেট্রিক টন। বাস্তবে উৎপাদন হয়েছে ২ লাখ ১২ হাজার মেট্রিক টনের বেশি। গত ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে সুপারি বিক্রি শুরু হয়ে চলবে ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। এরই মধ্যে প্রায় ৯৯ শতাংশ গাছ থেকে সুপারি সংগ্রহ শেষ হয়েছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক বিমল কুমার প্রামাণিক বলেন, অনুকূল পরিবেশ ও আধুনিক চাষপদ্ধতির কারণে এবার উৎপাদন ভালো হয়েছে। বাগানের সংখ্যাও বেড়েছে। বাজারে চাহিদা থাকায় সুপারি ভালো দামে বিক্রি হচ্ছে, এতে চাষি ও বাগানমালিকরা লাভবান হচ্ছেন।
উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আশীষ কুমার জানান, চলতি মৌসুমে প্রতিটি গাছে গড়ে ৪৭০ থেকে ৫০০টি করে সুপারি ধরেছে। খুচরা বাজারে মাঝারি আকারের কাঁচা সুপারি বিক্রি হয়েছে ৮ থেকে ১০ টাকায় এবং বড় আকারের সুপারি ১০ থেকে ১৬ টাকায়। তিনি বলেন, “আপেলের দামের কাছাকাছি সুপারি বিক্রি হওয়ায় চাষিরা খুশি।”
কৃষি বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, কাঁচা সুপারি শুকিয়ে প্রায় ১৪ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন শুকনা সুপারি পাওয়া যাবে। খুচরা বাজারে শুকনা সুপারির কেজিপ্রতি দাম প্রায় ৮০০ টাকা এবং পাইকারিতে ৬০০ টাকা ধরা হলে মোট বাজারমূল্য দাঁড়ায় প্রায় ৮৭০ কোটি টাকা। এতে ৪০ হাজারের বেশি প্রান্তিক চাষিসহ বাগান পরিচর্যা, পরিবহন ও ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত অন্তত দেড় লাখ মানুষ আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন।
টেকনাফের সাবরাং ইউনিয়ন, উখিয়ার সোনারপাড়া ও রামুর বিভিন্ন এলাকায় নতুন নতুন সুপারি বাগান গড়ে উঠেছে। স্থানীয় চাষিরা জানান, আগে মিয়ানমার থেকে বিপুল পরিমাণ সুপারি আমদানি হলেও এবার তা বন্ধ থাকায় দেশীয় সুপারির চাহিদা বেড়েছে। ফলে কক্সবাজারের বড় সুপারি এখন দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশের বাজারেও জায়গা করে নিচ্ছে।
আকার, স্বাদ আর দামের কারণে ‘আপেল’ নামে পরিচিত এই সুপারি এখন কক্সবাজারের কৃষি অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে—এমনটাই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।