বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ ২০২৬

উৎসব এলে দাম কমবে, এমন সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে: ডিসি

স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশ : ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:০৭

পবিত্র রমজানকে সামনে রেখে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কমিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপনের আহ্বান জানিয়েছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। তিনি বলেন, উৎসব এলে দাম বাড়বে—এই ধারণা থেকে বের হয়ে এসে উৎসব এলে দাম কমবে, এমন একটি সংস্কৃতি আমাদের গড়ে তুলতে হবে।

বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১টায় চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী খাতুনগঞ্জ পাইকারি বাজার পরিদর্শন ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।

জেলা প্রশাসক বলেন, রমজানকে কেন্দ্র করে অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি কিংবা ভোক্তা হয়রানি কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না। তিনি ব্যবসায়ী নেতাদের উদ্দেশে বলেন, খাতুনগঞ্জ দেশের অন্যতম বৃহৎ পাইকারি বাজার। এখান থেকে যদি দাম কমানোর উদ্যোগ নেওয়া যায়, তাহলে সেটি সারা দেশে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

পরিদর্শন শেষে খাতুনগঞ্জ, রিয়াজউদ্দিন বাজার ও বড়পুল এলাকায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়। এ সময় ১৪টি মামলায় মোট ২৮ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, রমজান মাসজুড়ে বাজার মনিটরিং কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

ডিসি জাহিদুল ইসলাম মিঞা আরও বলেন, উৎসবের আনন্দ তখনই অর্থবহ হবে, যখন সমাজের সব শ্রেণির মানুষ স্বস্তিতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে পারবে। তিনি ব্যবসায়ীদের ‘ব্লেইম গেম’ থেকে বিরত থেকে জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানান।

বাজারে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রতিটি পণ্য বিক্রয়ের ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলকভাবে রশিদ দেওয়ার নির্দেশ দেন জেলা প্রশাসক। পাশাপাশি পাইকারি বাজার থেকে খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছে পণ্য বিক্রির সময় রশিদে বিক্রেতার যোগাযোগ নম্বর যুক্ত রাখার কথাও বলেন, যাতে প্রয়োজনে তা যাচাই করা যায়।

তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, কোনো ধরনের সিন্ডিকেট বা কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির সুযোগ নেই। অনিয়ম প্রমাণিত হলে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পরিদর্শনকালে জেলা প্রশাসক ব্যবসায়ীদের কাছে চাঁদাবাজি বা পণ্যের সরবরাহ ঘাটতির বিষয়ে জানতে চাইলে তারা জানান, বাজারে কোনো চাঁদাবাজি নেই এবং বড় ধরনের সরবরাহ সংকটও দেখা যাচ্ছে না। তবে খুচরা ব্যবসায়ীদের একটি অংশ দাবি করেছে, পাইকারি পর্যায়ে কিছু পণ্যের দাম বাড়ায় খুচরা বাজারে তার প্রভাব পড়ছে।

জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, গত এক সপ্তাহে ছোলা, চিনি, তেল ও খেজুরসহ কয়েকটি পণ্যের দাম কিছুটা বেড়েছে। যদিও রমজানের আগে পর্যাপ্ত ভোগ্যপণ্য আমদানি করা হয়েছে, তবুও কিছু পণ্য গভীর সমুদ্রে লাইটার জাহাজে রেখে কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা হয়েছিল—এমন অভিযোগ ওঠে। সরকারের কঠোর অবস্থানের পর সেসব পণ্য খালাস করা হয়।

খাতুনগঞ্জ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোহাম্মদ আবদুস সালাম বলেন, রমজানে পণ্যের দাম স্থিতিশীল রাখতে জেলা প্রশাসক ব্যবসায়ীদের সহযোগিতা চেয়েছেন এবং ব্যবসায়ীরাও সে বিষয়ে আশ্বস্ত করেছেন।

সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মো. আমিনুর রহমান মিন্টু বলেন, গত বছরের তুলনায় অধিকাংশ পণ্যের দাম কম রয়েছে। যেগুলোর দাম অস্বাভাবিকভাবে কমে গিয়েছিল, সেগুলোর কিছুটা সমন্বয় হয়েছে মাত্র।

ভিডিও