রবিবার, ৮ মার্চ ২০২৬

চট্টগ্রামে রোজার শুরুতেই চড়া কাঁচাবাজার

স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশ : ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:০০

পবিত্র মাহে রমজানের শুরুতে চট্টগ্রামের কাঁচাবাজারে প্রায় সব পণ্যের দাম বেড়ে গেছে। শুধু সবজি নয়, মাছ, মাংস ও ফলের বাজারেও নেই কোনো স্বস্তি। রোজার আগে পণ্যের দাম কিছুটা সহনশীল থাকলেও রমজান শুরু হতেই পাল্টে গেছে বাজারের চিত্র। এতে করে পণ্য ক্রয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে সাধারণ ক্রেতাদের। বিক্রেতারা বলছেন, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম হওয়ায় দাম বেড়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে চট্টগ্রামের সবচেয়ে বড় সবজি বাজার রিয়াজউদ্দিন বাজারে ঘুরে দেখা গেছে, প্রায় সব ধরনের সবজি আগের সপ্তাহের তুলনায় ৫ থেকে ১৫ টাকা বেশি দরে বিক্রি হচ্ছে।

ভালো মানের টমেটো ৬৫–৭০ টাকা কেজি, খিরা ১০০ টাকা, বাঁধাকপি ৩০ টাকা, বেগুন ৬০–৭০ টাকা, ঢেঁড়শ ১২০ টাকা এবং লাউ ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। লেবুর দামও বেড়ে বড় আকারের প্রতি জোড়া ৪০ টাকা, আর এক ডজন কিনলে ২০০ টাকা। পুদিনা পাতার কেজি ১১০ টাকা, এক আঁটি বিক্রি হচ্ছে ২০ টাকায়।

রিয়াজউদ্দিন বাজারের বিক্রেতা আহমদ বলেন, টমেটোসহ শীতকালীন সবজির দাম সাধারণত কম থাকে। কিন্তু এ বছর সরবরাহ কম হওয়ায় দাম বেড়েছে। আমরা আড়ত থেকে বেশি দামে কিনে বেশি দামে বিক্রি করতে বাধ্য।

চট্টগ্রামের অন্যান্য বাজারের তুলনায় রিয়াজউদ্দিন বাজারে কিছুটা কম দামে সবজি পাওয়া যাচ্ছে। ক্রেতা শফিকুল ইসলাম বলেন, নতুন সবজি আসছে, তাই দাম বাড়তি। রোজার প্রথম দিন বাজারও গরম।

এদিকে ব্রয়লার মুরগির দাম ১৯৫–২০০ টাকা কেজি, দেশি মুরগি ৬২০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ডিমের দাম তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল, প্রতি ডজন ১০৫–১১০ টাকা। মুরগি বিক্রেতা সাবির উদ্দিন জানান, পাইকারি পর্যায়ে দাম বেড়েছে। ফার্ম মালিকদের উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় আমরা আগের তুলনায় বেশি দামে বিক্রি করছি।

চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, রমজানকে কেন্দ্র করে অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি, কৃত্রিম সংকট বা ভোক্তা হয়রানি কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না।

তিনি বলেন, উৎসব আসলে জিনিসপত্রের দাম কমাতে হবে। উৎসবের আনন্দ তখনই অর্থবহ হবে, যখন সমাজের সব শ্রেণির মানুষ স্বস্তিতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে পারবে।

ভিডিও